উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় জীবন গেল স্কুলছাত্রের

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ১৮:০৬
 
সহপাঠীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় বখাটের ছুরিকাঘাতে জীবন দিতে হয়েছে খুলনা পাবলিক কলেজের সপ্তম শ্রেণির মেধাবী ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিনকে (১৩)। গত শনিবার রাত সোয়া ৯টায় কলেজ ক্যাম্পাসে কনসার্ট চলাকালে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। 
 
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ শনিবার রাতেই পাঁচজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা নিহত রাজিনের সহপাঠী ও বন্ধু। তাদের বয়স ১৩ থেকে ১৪ বছর। এ ঘটনায় রাজিনের পিতা শেখ জাহাঙ্গীর আলম রবিবার দুপুরে নগরীর খালিশপুর থানায় ৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ৮-১০জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। 
 
এ ছাড়া কলেজ কর্তৃপক্ষ হত্যাকাণ্ডের কারণ অনুসন্ধানে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। নিহত রাজিন খুলনা মহানগরীর বড় বয়রা ১২৮/৩, পালপাড়া সড়কের শেখ জাহাঙ্গীর আলম ও খুলনা মেট্রো পুলিশ লাইনস স্কুলের শিক্ষিকা রেহানা খাতুনের ছেলে। 
 
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, ফাহমিদ তানভীর রাজিন ও তার দুই সহপাঠি একটি কোচিং সেন্টারে প্রাইভেট পড়তে যেত। কোচিংয়ে যাওয়া-আসার পথে তার দুই সহপাঠিকে একই এলাকার ফাহিম ইসলাম মনি ও আসিফ প্রান্ত আলিফ উত্যক্ত করতো। এতে রাজিন তাদের বাধা দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার জের ধরে শনিবার রাত সোয়া ৯টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে রাজিনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়।
 
শনিবার বিকাল ৫টার দিকে রাজিনের বন্ধু ও সহপাঠি শাহিনুর রহমান সাগর ফোন দিয়ে রাজিনকে কলেজের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে যায়। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলাকালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাত সোয়া ৯টায় ফাহিম ইসলাম মনি, তার বন্ধু আসিফ প্রান্ত আলিফ, রয়েল, সানি ইসলাম ওরফে আপন, জিসান খান ও তারিন হাসান রিজভীসহ ৭-৮ জন তাকে কনসার্ট স্থলের পূর্বপাশে নিয়ে মারপিট করে। একপর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। 
 
এ ব্যাপারে খুলনা পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ লে. কর্নেল মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাজিন অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিল। তার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। 
 
এদিকে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে পুলিশ শনিবার রাতেই বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫জনকে আটক করে। আটককৃতরা হচ্ছে, নগরীর মুজগুন্নি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও সেনা সদস্য আলমগীর হোসেনের ছেলে আসিফ প্রান্ত আলিফ (১৬), নগরীর বড় বয়রা মেইন রোডস্থ আফজালের মোড় এলাকার জাকির হোসেন খানের ছেলে মো. জিসান খান ওরফে জিসান পারভেজ (১৬), বড় বয়রা মেইন রোড এলাকার মো. আহাদ হোসেনের ছেলে তারিন হাসান ওরফে রিজভী (১৩), রায়েরমহল মুন্সিবাড়ির চিনির ভাড়াটিয়া সাইদ ইসলামের ছেলে মো. সানি ইসলাম ওরফে আপন (১৩), বড় বয়রা সবুরের মোড় এলাকার লিয়াকত হোসেনের ছেলে রয়েল (১৪) এবং মুজগুন্নি আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ও মোংলা থানার এসআই ওহিদুর রহমানের ছেলে শাহিনুর রহমান ওরফে সাগর (১৩)। তবে আটকদের মধ্যে সাগর ছাড়া অন্যদের মামলায় আসামি করা হয়েছে। 
 
এ ব্যাপারে খালিশপুর থানার ওসি (তদন্ত) আবুল খায়ের বলেন, নিহত রাজিনের পিতা শেখ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত  ৮-১০জনকে আসামি করে এজাহার দাখিল করেছেন। এর মধ্যে এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
 
ইত্তেফাক/ইউবি