রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ থানা এলাকায় চার তলার অনুমোদন নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে একটি পাঁচতলা ভবন। অবশেষে এই ভবনটি হেলে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে নির্দেশনা দিয়েছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। রবিবার থেকে বাসা ছাড়তে শুরু করেছেন অনেকেই।
এদিকে হেলে পড়া বাড়িটি এক নজর দেখার জন্য শত শত মানুষ ভিড় করলেও বাড়তি নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বাড়ির কয়েক জন বাসিন্দা জানিয়েছেন, তারা আজ সোমবার থেকে অন্যত্র বাসা ভাড়া নিবেন।
রবিবার দুপুরে ২/ই আরএনডি রোডের কিল্লার মোড় সংলগ্ন ফজলুল হক আমিনির বাড়ির বিপরীত দিকের ওই ভবনটির ওপরের অংশ হেলে পাশের ভবনে ঠেকে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন লালবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি), ফায়ার সার্ভিস ও রাজউকের কর্মকর্তারা।
ভবন হেলে পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে লালবাগ থানার ওসি সুবাস কুমার পাল জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ও সিটি করপোরেশনকে জানাই। পরে তারা এসে বাড়ি দেখেছেন। ভবনটিতে বসবাসের ক্ষেত্রে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এদিকে হেলে পড়া বাড়ির মালিক হাজী শওকত আলী ভবনের খবর শুনেই গা-ঢাকা দিয়েছেন।
বাড়ির কেয়ারটেকার আলেক চান ইত্তেফাককে বলেন, পাঁচ তলা এই ভবনে মোট ২২টি পরিবার বসবাস করে। দুপুরে হঠাৎ করেই বাড়িটি দক্ষিণ দিকে হেলে পড়ে। বর্তমানে বাড়িটির ছাদ পাশের আবুল খায়েরের বাড়ির ছাদের সাথে কাত হয়ে হেলে পড়েছে। তবে বাড়ির কোথাও কোন ফাঁটল দেখা দেয়নি। বাড়ির বাসিন্দারা আতংকিত তারা নিরাপদে সরে যেতে শুরু করেছে। পুলিশ,রাজউক ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এদিকে রাজউকের অঞ্চল-৫ এর অথোরাইজড কর্মকর্তা আশীস কুমার সাহা জানিয়েছেন, ভবনের গ্যাস, পানি বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছন্ন করে দেয়া হয়েছে। বাসিন্দাদের অন্য কোথাও চলে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
তিনি আরো জানান, চার তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও মালিক পাঁচ তলা বানান। এখন ভবনের নথি বুয়েটে পাঠানো হবে। পরীক্ষার পর এটি বাসযোগ্য কি না তা জানা যাবে।
রাজউকের পরিচালক ( উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ) ড.মো.মোশাররফ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, হেলে পড়া ভবনের সকল বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ভবনটি সিলগালা করা হয়েছে। বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ টিম পুরো বিষয়টি তদন্ত করছেন। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/ইউবি
