ছাত্রলীগ নেতাসহ ৪জনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা

আপডেট : ২১ জানুয়ারি ২০১৮, ২১:১২
 
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয়ে সৌদি প্রবাসীকে অপহরণের পর মুক্তিপণের টাকা নেয়ার সময় হাতেনাতে রেজাউল করিম ওরফে রানা (২৬) নামে এক অপহরণকারীকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে জেলা শহরের কাজীপাড়াস্থ জেলা ঈদগাহ মাঠ এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। 
 
রেজাউল দক্ষিণ মোড়াইল এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের ছেলে। শনিবার রাতে অপহৃত সফিকুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বলেন, রেজাউল করিম নিজেকে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি বলে দাবি করেন।
 
মামালায় রেজাউল করিম (২৬), জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক শহরের পাইকপাড়ার অনিক পাল (২৬) ও পাভেল মিয়া (২৫) এবং মো. শান্তকে (২৩) আসামি করা হয়েছে।
 
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যায় সরাইল উপজেলা নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাছিউড়া সফিকুল ইসলাম জেলা শহরের কাউতলীর দিকে যাচ্ছিলেন। শহরের অবকাশ এলাকায় পৌঁছালে একটি মোটরসাইকেলে তিন অপহরণকারী তার গতিরোধ করে নিজেদের ডিবির পুলিশের লোক বলে পরিচয় দেন। উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সফিকুলকে গ্রেফতারের জন্য এসেছেন বলে জানান। কিছুক্ষণ পর অন্য একজন মোটরসাইকেলে আরেকজন ঘটনাস্থলে আসেন। তিনিও নিজেকে ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা বলে বলে পরিচয় দেন। পরে অপহরণকারীরা সফিকুলকে একটি পরিত্যক্ত কক্ষে নিয়ে যান।
 
সফিকুলের কাছে অস্ত্র আছে বলে অপহরণকারীরা তাকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে সফিকুলের কাছে থাকা নগদ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন রেজাউল করিম। এসময় অপহরণকারীরা সফিকুলের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। সফিকুল পাঁচ লাখ টাকা দিতে পারবে জানালে তারা এতে রাজি হন। সফিকুল মুক্তিপণের টাকার জোগাড় করতে মুঠোফোনে চাচাতো ভাই মনিরুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
 
তিনি একসময় মনিরুলকে অপহরণকারীদের দেয়া বিকাশ নাম্বারে টাকা পাঠাতে বলেন অথবা টাকা সরাসরি পৌঁছে দিতে বলেন। পরে আবার মুঠোফোনে মুক্তিপণের দুই লাখ টাকা নিয়ে জেলা শহরের কাজীপাড়া ঈদগাহ মাঠে আসলে বলে। বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে মনিরুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার পুলিশকে অবহিত করেন। সদর থানা পুলিশ কাজীপাড়া ঈদগাহ মাঠ এলাকা থেকে মুক্তিপণের টাকা নেওয়ার সময় হাতেনাতে রেজাউল করিমকে আটক করে।
 
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, রেজাউল করিম ওরফে রানা নামে ছাত্রলীগের কোনো নেতাকর্মী নয়। জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক পদে থাকা নেতার নাম অনিক পাল।
 
সদর থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, পুলিশের উপস্থিত টের পেয়ে তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। এঘটনায় চারজনকে আসামি করে অপহৃত সফিকুলের পক্ষ থেকে মামলা দেয়া হয়েছে। মামলার রেজাউল করিমকে গ্রেফতার দেখিয়ে বিকেলে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি