গাজীপুরে হত্যা মামলা : ৭ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৫:৪০
 
গাজীপুরের কালীগঞ্জের ব্যাটারি চালিত এক ইজিবাইক চালক হত্যা মামলার রায়ে যাবজ্জীবনসহ সাত আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। আজ সোমবার সকালে গাজীপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এ কে এম এনামুল হক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন।
 
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ আসামি মো. মাসুম (২৮)।কালীগঞ্জ উপজেলার বড়নগর গ্রামের মো. আঙ্গুর খানের ছেলে। রায়ে একই সঙ্গে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। মামলায় অন্য একটি ধারায় মাসুমসহ অপর ৬ আসামির প্রত্যেককে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরো এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে আদালত। 
 
দণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- আঙ্গুর খান (৫০), তার ছেলে মো. সুমন (২৫), মো. রাজন (২০), একই এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মজিবুর রহমান ওরফে মজিব ওরফে মজিবুল হক (২৪), আকবর আলী খান (৫৪) ও তার ছেলে মো. হৃদয় (২০)।
 
গাজীপুর আদালতের পরিদর্শক মো. রবিউল ইসলাম মামলার বরাত দিয়ে জানান, জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার বড়নগর এলাকার ভিকটিম আব্দুল হামিদ এবং একই এলাকার আঙ্গুর খান দুইজনেই ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক চালক। ইজিবাইকে যাত্রী ওঠানো নিয়ে এ দুইজনের মধ্যে দ্বন্দ্ব ছিল। ২০১৫ সালের ৮ মার্চ সকাল ৮টার দিকে কালীগঞ্জের চান্দাইয়া এলাকায় পৌঁছলে হামিদের ইজিবাইকে আঙ্গুর খান ধাক্কা দেয়। এ নিয়ে দুইজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি ঘটনা ঘটে। 
 
পরে হামিদ বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বীকে সঙ্গে নিয়ে ওই দিন সকাল ১০টার দিকে আঙ্গুর খানের বাড়ির পাশে আঙ্গুর খানের সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় মুরব্বী ফারুক শেখের কথা অনুযায়ী হামিদ ক্ষমা চাইতে আঙ্গুর খান তাকে গালা ধাক্কা দেয় এবং তার নিদের্শে আসামিরা হামিদকে মারধর করে এবং তার সঙ্গে টাকা ৩০ হাজার টাকা ও মোবাইল সেট নিয়ে যায়। পরে লোকজন হামিদকে উদ্ধার করে প্রথমে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে ধানমন্ডি জেনারেল এন্ড কিডনি হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১১ মার্চ হামিদ মারা যায়। 
 
পরদিন এ ঘটনায় (১২ মার্চ) নিহতের স্ত্রী আউলিয়া বেগম বাদী হয়ে ৮ জনের নামে এবং অজ্ঞাত ৪/৫ জনকে আসামী করে কালীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে। ১১ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ এবং শুনানি শেষে সোমবার আদালত ওই দণ্ড দেয়। 
 
রাস্ট্রপক্ষে পিপি অ্যাডভোকেট হারিছ উদ্দিন আহম্মদ এবং আসামি পক্ষে অ্যাডভোকেট মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. কাউসার সিকদার মামলাটি পরিচালনা করেন। 
 
ইত্তেফাক/কেকে