লেক সংস্কারের অভাবে সৌন্দর্য হারাচ্ছে গজনী বিনোদন কেন্দ্র

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০১:০৬

ঝিনাইগাতী উপজেলার গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্রের বিধ্বস্ত লেকের পাড় সংস্কারের অভাবে এখন আর চলে না পঙ্খীরাজ নৌকা ও প্যাডেল বোড। বিনোদন কেন্দ্রটির প্রধান আকর্ষণ ছিল এ লেকটি। এখন লেকটিতে নেই পানি। বিধ্বস্ত লেক নির্মাণের অভাবে তা গো-চরণ ভূমিতে পরিণত হয়েছে। কমতে শুরু করেছে ভ্রমণ বিলাসীদের আগমন। ১৯৯৩ সালে তত্কালীন জেলা প্রশাসক আতাউর রহমান মজুমদার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি গারো পাহাড়ের সৌন্দর্যকে ঘিরে গড়ে তোলেন এ পিকনিক স্পটটি। মৌজার নামানুসারে নামকরণ করা হয় গজনী অবকাশ কেন্দ্র। তখন লেকটি লিজ নেন শেরপুরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শিল্পপতি ইদ্রিস মিয়া। এরপর লেকের উপর ভাসমান একটি অবসর কেন্দ্র, পঙ্খীরাজ নৌকা ও প্যাডেল বোট চলাচলের ব্যবস্থা করেন। এতে লেকটি হয়ে উঠে গজনী অবকাশ বিনোদন কেন্দ্রের প্রাণ। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত শতশত ভ্রমণবিলাসীরা ওই পঙ্খীরাজ নৌকা ও প্যাডেল বোডে চড়ে আনন্দ উপভোগ করতেন। এখান থেকে আসতো বিপুল পরিমাণের রাজস্ব। জানা গেছে, লেকটির লিজের মেয়াদ শেষ হয়েছে আরো ক’বছর আগেই। ২০১৪ সালে আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে লেকের একটি পাড় বিধ্বস্ত হয়। পানি শূন্য হয়ে পড়ে লেকটি। এরপর লেকের বিধ্বস্ত পাড়টি আর সংস্কার করা হয়নি।

অবকাশ কেন্দ্রের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিমসহ ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমান জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার শেরপুরে যোগদানের পর অবকাশ কেন্দ্রের নানাদিক থেকে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু লেকের পাড়টি মেরামতের অভাবে ও লেকটিতে পানি না থাকায় অবকাশ কেন্দ্রটি যেন মরে যেতে বসেছে। হ্রাস পেতে শুরু করেছে ভ্রমণ বিলাসীদের আগমণ। তারা জরুরি ভিত্তিতে লেকটির বিধ্বস্ত পাড় সংস্কার করে কেন্দ্রের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

এ বিষয়ে ইউএনও ফারহানা করিম বলেন, লেকের পাড় সংস্কারের ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের আলোচনা হয়েছে। তারা প্রকল্প প্রণয়ন করে পাড়টি সংস্কারের ব্যবস্থা করবেন।

ইত্তেফাক/নূহু