লেকহেড স্কুলের ছাড়পত্রের জন্য দুই কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়া হয়

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ০৯:৪৪
 
রাজধানীর গুলশানের লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক খালেদ হাসান মতিনের বিরুদ্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তাকে ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ অভিযোগে গতকাল রাতেই বনানী থানায় ডিবির এসআই মনিরুল ইসলাম জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় খালেদ হাসান ছাড়াও দুই আসামি হলেন শিক্ষা মন্ত্রীর পিও মোতালেব হোসেন ও উচ্চমান সহকারী নাসির উদ্দিন।
 
দন্ডবিধি ১০১, ১৬২ ও ১৬৫ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। দন্ডবিধির ১৬২ ধারায় বলা হয়েছে, অসাধু বা অবৈধ উপায়ে সরকারী কর্মচারীকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে বকশিশ গ্রহণ এবং দন্ডবিধি ১৬৫ ধারায় বলা হয়েছে, সরকারী কর্মচারী কর্তৃক অনুরূপ সরকারী কর্মচারী কর্তৃক পরিচালিত মোকদমা বা ব্যবসায়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিকট হতে বিনামূল্যে মূল্যবান বস্তু গ্রহণ।  
 
ডিবির একজন কর্মকর্তা জানান, স্বরাস্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে শিক্ষা মন্ত্রণালয় লেকহেড গ্রামার স্কুল বন্ধ করে দিলেও উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্কুলটি চালু করার সিদ্ধান্ত হয়। স্কুলটি পুনরায় চালুর জন্য শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে লেকহেড গ্রামার স্কুলের মালিক দৌড়ঝাঁপ শুরু করেন। মন্ত্রণালয় থেকে ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি দেওয়া হয়। ওই চিঠি তৈরি এবং স্কুলটি খুলে দেওয়ার জন্য খালেদ হাসান মতিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই কর্মকর্তাকে ঘুষ দেন। বৃহস্পতিবার নাসির উদ্দিনকে বনানী এলাকা থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকাসহ আটক করে একটি গোয়েন্দা সংস্থা। মন্ত্রীর পিও ও উচ্চমান সহকারীর সঙ্গে এ কাজ করে দেওয়ার জন্য ৫০ লাখ টাকা ঘুষ প্রদানের সিদ্ধান্ত ছিল। তবে এই ৫০ লাখ টাকা খালেদ হাসান মতিন প্রদান করেছেন কিনা-এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
 
ডিবির অপর এক সূত্র জানায়, মোতালেব ও নাসিরের সঙ্গে জঙ্গি কানেকশন থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে ইতোপূর্বে কোন জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার ঘটনা ঘটেছে কিনা- সে বিষয়টিও তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
 
গতকাল ডিবির এসআই মনিরুল ইসলাম বনানী থানায় তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় খালেদের বিরুদ্ধে সরকারী কর্মচারীদের ঘুষ প্রদানের অভিযোগ হয়। এই মামলায় আজ তাদেরকে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে আদালতে পাঠানো হবে।
 
ইত্তেফাক/আনিসুর