স্কুলছাত্র রাজিন হত্যার দায় স্বীকার করে ৪ আসামির জবানবন্দি

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:৩২
 
খুলনায় স্কুলছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিন (১৩) হত্যার মূলহোতা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম সাব্বির হাওলাদারসহ চার আসামি হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেছে। সাব্বির মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা মহানগর হাকিম মো. শাহীদুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।  
 
এর আগে সোমবার বিকালে একই আদালতে অপর তিন আসামি তারিন হাসান ওরফে রিজভী (১৩), আসিফ প্রান্ত আলিফ (১৬) ও মো. সানি ইসলাম ওরফে আপন (১৩) স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তবে, পুলিশ এ মামলায় ৭জনকে গ্রেফতার করতে পারলেও ১নম্বর আসামি ফাহিম ইসলাম মনিকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি।
 
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খালিশপুর থানার এসআই মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, জবানবন্দিতে তারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তিনি বলেন, সাব্বির নিহত রাজিনের বুকে ছুরি ঢুকিয়ে দেয়। আর অন্যরা তাকে কিলঘুষি মারে। ছুরির আঘাত গুরুতর হওয়ায় প্রচুর রক্তক্ষরণের কারণেই তার মৃত্যু হয়।
 
এদিকে, পুলিশ আসামি মো. মঞ্জুরুল ইসলাম সাব্বির হাওলাদার (১৭), বিএম মাজিব হাসান রয়েল (১৪) ও সাক্রান সালেহ মিতুলকে (১৪) জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তবে, সাব্বির স্বীকারোক্তি দিলেও রয়েল ও মিতুল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় নি। আদালতের নির্দেশে তাদের যশোর কিশোর উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো প্রস্তুতি চলছে।
 
গ্রেফতারকৃত মঞ্জুরুল ইসলাম সাব্বির হাওলাদার নগরীর ছোট বয়রা শ্মশান ঘাট এলাকার জাকির হাওলাদারের ছেলে, বিএম মাজিব হাসান রয়েল নগরীর বয়রা সবুরের মোড় সেন্ট্রাল রোড এলাকার বিএম লিয়াকত আলীর ছেলে এবং সাক্রান সালেহ মিতুল ছোট বয়রা ইসলামিয়া কলেজ রোড এলাকার ৭নম্বর আনিস নগরের এসএম আব্দুল মজিদের ছেলে। এর মধ্যে র‌্যাব রয়েল ও মিতুলকে এবং পুলিশ বাকিদের গ্রেফতার করে। সাব্বিরের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী সোমবার বিকালে তার বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা ছুরি উদ্ধার করা হয়।
 
উল্লেখ্য, শনিবার রাত সোয়া ৯টায় খুলনা পাবলিক কলেজ ক্যাম্পাসে কনসার্ট চলাকালে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় ফাহমিদ তানভীর রাজিনকে। খুলনা পাবলিক কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় রাজিনের বাবা শেখ জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে রবিবার খালিশপুর থানায় ৬জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৮-১০জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি