চট্টগ্রামে খুলশী এলাকার একটি আবাসিক এলাকার ভেতরে রাতের আঁঁধারে পাহাড় কেটে উজাড় করছে লোহাগাড়া হাউজিং নামের একটি আবাসিক সংগঠন। গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে পাঁচটি এক্সক্যাভেটার দিয়ে রাতের আঁঁধারে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত জালালাবাদ পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ কেটে ফেলা হচ্ছে। বিশেষ কৌশলে পাহাড় কাটার কারণে নজরদারি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কিছুই জানেনা। অন্যদিকে সেখানে রাস্তা বন্ধ করে গনমাধ্যমসহ সব শ্রেণীর সাধারণ মানুষের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের সময় মাস্টার দা সূর্য সেন ও তার সহযোগিরা ওই পাহাড়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক মূল্য ধারণ করা সেই পাহাড়ের বড় একটি অংশ অনেক আগেই সাবাড় করেছে একটি চক্র। এরকম পাহাড় উজাড় করেই এর আগে জালালাবাদ পাহাড়ের এলাকার পাশে আরেকটি আবাসিক এলাকা নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আর এর ঠিক পাশেই এখন লোহাগড়া হাউজিং নামের একটি সংগঠন নতুন করে পাহাড় কাটছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীরা বলেছেন, বাইরে থেকে কাউকে ওই এলাকার ভেতরে ঢুকতে না দেয়ায় ভেতরে ঠিক কি হচ্ছে সরাসরি বোঝা মুশকিল। তবে পার্শবর্তী উঁচু ভবন ও পাহাড়ের ছাদ থেকে পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সেখানে গত ১৫ দিনের বেশি সময় রাত ১০টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ৪/৫টি এক্সক্যাভেটার প্রতিদিন পাহাড় কাটছে। কাটা অংশের আয়তন যে দিন দিন বাড়ছে তা অনেক দূর থেকেও দেখা যাচ্ছে।
খুলশী থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ইত্তেফাককে জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের লোকজন তাকে জানিয়েছেন, জালালাবাদ মৌজার ২৩ নম্বর খতিয়ানের ২৭ নম্বর দাগের ওই পাহাড়টি লোহাগাড়া হাউজিংয়ের মালিকানাধীন। তারা নিয়মিত এর খাজনাও পরিশোধ করে। কিন্তু কোনো পাহাড় ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তির ভেতর হলেও সেটি কাটার অনুমতি আছে কিনা জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘কোনো ধরণের পাহাড় কাটার অনুমতি নেই। তবে বিষয়টি পরিবেশ অধিদফতরের দেখা উচিত।’ এ ব্যাপারে জানতে পরিবেশ অধিদফতর চট্টগ্রাম মহানগরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিককে ফোন করা হলেও তার সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
ইত্তেফাক/নূহু
