জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে সুনির্দিষ্ট বিধানের প্রস্তাব করে আজ বুধবার সংসদে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বিল-২০১৮ পাস হয়েছে। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু বিলটি পাসের প্রস্তাব করেন।
বিলে জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ রাখতে উপযুক্ত কোন এলাকাকে জোন হিসেবে ঘোষণার বিধান করা হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের অনুমতিক্রমে কোন জোনে ইয়ার্ড স্থাপন করার বিধান করা হয়েছে। তবে জোনের বাইরে ইয়ার্ড স্থাপন বা অনুরূপ কোন স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না।
বিলে ইয়ার্ডে আমদানিকৃত বা স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ করার বিধান করা হয়েছে। তবে এ ধরনের কোন প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য সংগ্রহের পূর্বে বোর্ডের অনাপত্তি সনদ গ্রহণ করতে হবে।
বিলে পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে আন্তর্জাতিক মান সংরক্ষণে এ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক আইন ও কনভেনশনের শর্ত প্রতিপালনের বিষয়টি নিশ্চিত করার বিধান করা হয়েছে।
বিলে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মর্যাদার কর্মকর্তাকে চেয়ারম্যান করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট বাংলাদেশ জাহাজ পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ বোর্ড গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
বিলে বোর্ডের কার্যালয়, বোর্ড গঠন, বোর্ডের কার্যাবলী ক্ষমতা, সভা, মহাপরিচালক নিয়োগ, জনবল কাঠামো, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম, পরিদর্শন, বার্ষিক প্রতিবেদন, বোর্ডের তহবিল, বাজেট, হিসাব রক্ষণ নিরীক্ষাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বিধান করা হয়েছে।বিলে উল্লেখিত বিধান লংঘনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে এর বিচার এবং আর্থিক দন্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে দন্ড প্রদানের বিধান রাখা হয়েছে।
বিলে জরুরি ভিত্তিতে জাহাজ সৈকতায়ন সম্পর্কিত বিশেষ বিধান করা হয়েছে। প্রত্যেক ইয়ার্ডকে বার্ষিক প্রতিবেদন প্রদান করতে হবে। বিলে কমিটি গঠন, ক্ষমতা অর্পণ, জনসেবক নিয়োগ, বিধি-প্রবিধি, প্রণয়নের ক্ষমতাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিধান রাখা হয়েছে।
জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমাম, নূরুল ইসলাম ওমর, নূরুল ইসলাম মিলন ও বেগম রওশন আরা মান্নান বিলের ওপর জনমত যাচাই, বাছাই কমিটিতে প্রেরণ ও সংশোধনী প্রস্তাব আনলে কয়েকটি সংশোধনী গ্রহণ করা হয়। বাকি প্রস্তাবগুলো কন্ঠ ভোটে নাকচ হয়ে যায়। বাসস
ইত্তেফাক/কেকে
