গৌরনদীতে শৈত্যপ্রবাহে পান চাষিদের মাথায় হাত

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:৩২

তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা আর অব্যাহত শৈত্যপ্রবাহে বরিশালের গৌরনদীতে পানচাষি এবং ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। ঠান্ডাজনিত কারণে পান গাছে দাগ, শিকড় পচা ও পাতাঝরাসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ দেখা দিয়েছে। এর ফলে পানের বাজারে ধস নেমেছে। কমেছে পানের দাম। গত এক সপ্তাহে পানচাষি এবং এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

গৌরনদী কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গৌরনদীতে ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষের আবাদ হচ্ছে। এ এলাকার অধিকাংশ লোক পান চাষ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। গত এক বছর ধরে বাজারে পানের দাম বেশি। কিন্তু আকস্মিক শৈত্যপ্রবাহের কারণে পানের পাতায় হলদে দাগ দেখা দেওয়ায় পান পাতা পচে যাচ্ছে। এক পোয়া (৩২ বিড়ায় এক পোয়া এবং ৬৪ পানে এক বিড়া) বড় পানের দাম তিন হাজার থেকে নেমে আটশ’ টাকা, মধ্যম পান প্রতি পোয়া এক হাজার ছয়শ’ থেকে নেমে পাঁচশ’ এবং ছোট পান প্রতি পোয়া পাঁচশ’ থেকে নেমে তিনশ’ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে উপজেলার বিভিন্ন মোকামে কম দামে পান কিনেও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা বলছেন, পানের পাতায় কালো দাগ থাকায় এবং পচে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন স্থানের মোকামে আরও কম দামে পান বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। পান পরিবহন এবং বিক্রিতে দু’দিন সময় লাগে। আর এ সময়ের মধ্যে পান পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে এ অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা দেশের বিভিন্ন বাজারে পানির দামে পান বিক্রি করছেন।

উপজেলার পানের বড় মোকাম নীলখোলা এলাহী পান ভান্ডারের মালিক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন মুন্সী বলেন,  সোমবার ২০ লাখ টাকার পান কিনি। সেদিনই তিনি ঢাকা, ফেনীসহ বিভিন্ন মোকামে পান সরবরাহ করেন। তীব্র শীত, ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহে প্রচণ্ড ঠান্ডায় পানের পাতার ওপর কালো দাগ পড়া ও পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় সরবরাহকৃত পান নামে মাত্র টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন।

একই ধরনের কথা বলেন, পান ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম খান, রুবেল খান, আনিচ তালুকদার, স্বপন গাজী।

সংশ্লিষ্ট কৃষি সমপ্রসারণে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার এবার ১ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পানের আবাদ রয়েছে। আমাদের পক্ষ থেকে চাষিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হচ্ছে। তাদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পানবরজ বর্তমানে যেসব রোগবালাইয়ে সংক্রমিত হয়েছে সে ব্যাপারে আমাদের মাঠকর্মীরা প্রতিনিয়ত চাষিদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। অতিরিক্ত শীতের কারণে এ ধরনের রোগবালাই হচ্ছে। পানবরজের পরিচর্যা করলে এবং শীত কমে গেলে এক সপ্তাহের মধ্যে এ পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে বলে আশা করেন তিনি।

ইত্তেফাক/নূহু