মধুখালীতে অনুমোদনহীন ইটভাটা!

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৮, ০০:৩৪

আইন অমান্য করে মধুখালী উপজেলার বাগাট ইউনিয়নের গোমারা গ্রামে তেফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণের ফলে পরিবেশ দূষণ বাড়ছে এবং ইটভাটার যানবাহন চলাচলের কারণে মাঝিবাড়ি-সীতারামপুর সড়কটি ইতোমধ্যেই বেহাল হয়ে পড়েছে বলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ—ইটভাটাটি তেফসলি জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে। এতে ভাটা সংলগ্ন অনেকের জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

অভিযুক্ত মেসার্স এম এম কে বি ইটভাটার মালিকানার অংশীদার মিটুল শেখ ‘এ বছরই ইটভাটা শুরু করেছি। পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছি।’

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কোনো ব্যক্তি ইটভাটা নির্মাণ করতে চাইলে তাকে প্রথমে অবস্থানগত ছাড়পত্র এবং পরে পরিবেশগত ছাড়পত্র নিতে হয়। অবস্থানগত ছাড়পত্র পাওয়ার আগে ওই জমিতে কোনো ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করার সুযোগ নেই। ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. লুত্ফর রহমান বলেন, ‘মেসার্স এম এম কে বি ইটভাটা কর্তৃপক্ষ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করেছে। কিন্তু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না দেওয়ায় ইটভাটা নির্মাণে সম্মতি দেওয়া হয়নি। তেফসলি জমিতে ইটভাটা নির্মাণ করার কোনো সুযোগ নেই। কেউ এ উদ্যোগ নিলে সেটি বেআইনি। অবৈধ এ কার্যক্রম বন্ধের জন্য জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করব।’

মধুখালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খালেদা পারভীন বলেন, ‘আমার দপ্তর থেকে মেসার্স এম এম কে বি নামে কোনো ইটভাটার ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। তেফসলি জমিতে যদি ইটভাটা করা হয়ে থাকে, আইনের দৃষ্টিতে সেটা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’ ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের এনডিসি হাসান মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মেসার্স এম এম কে বি নামের কোনো ইটভাটার ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি।’

মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহাদত হোসেন কবির বলেন, ‘বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দেখব— অনুমোদন ছাড়া কেউ ইটভাটা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ইত্তেফাক/নূহু