খুলনা অঞ্চলের ১০ নদীতে ১১ ফেরি ও ১০টি পন্টুন দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। এর অধিকাংশই ধীরে ধীরে নদীতে নিমজ্জিত হয়ে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া, ফেরির লোহার পাত ও মালামাল চুরি হয়ে যাচ্ছে। খুলনা সড়ক ও জনপথের (সওজ) ফেরি বিভাগ বলছে—নষ্ট ফেরি ও পন্টুন দেখার দায়িত্বটা তাদের নয়। সওজের মূল বিভাগের।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে—সড়ক ও জনপথ বিভাগের নিয়ন্ত্রণে খুলনা ফেরি ডিভিশনে মোট ১২টি ফেরিঘাটের মধ্যে ৯টি চালু রয়েছে। এগুলো হচ্ছে—খুলনা মহানগরীর ভৈরব নদীর জেলখানা ঘাট ও নগর ঘাট, রূপসা উপজেলার নন্দনপুর ফেরিঘাট (প্রস্তাবিত) আঠারবাকী ফেরিঘাট, ঝঁপঝপিয়া নদীর পানখালি ফেরি ঘাট, ঢাকী নদীতে পোদ্দারগঞ্জ ফেরিঘাট, বাগেরহাট জেলার পানগুছি নদীতে মোরেলগঞ্জ ফেরিঘাট, মোংলা চ্যানেলে মোংলা ফেরিঘাট, খোলপেটুয়া নদীতে মানিকখালী ফেরিঘাট এবং কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদীতে কালিয়া ফেরিঘাট। এ ছাড়া, এ ডিভিশনে মোট ২২টি ফেরির মধ্যে ১১টি ফেরি চালু রয়েছে। বাকিগুলো দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। এরমধ্যে সংস্কারে রয়েছে মাত্র একটি ফেরি। এ দিকে, ভিভিশনের খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন নদ-নদীর ২৮টি পন্টুনের মধ্যে ১৯টি পন্টুন চালু রয়েছে। তার মধ্যে সংস্কারে রয়েছে একটি পন্টুন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে—বটিয়াঘাটা উপজেলার শৈলমারী নদীতে ১টি ফেরি ও ১টি পন্টুন, ঝঁপঝপিয়া নদীতে ৩টি ফেরি, নগরঘাটে ১টি পন্টুন, পোদ্দারগঞ্জে ১টি ফেরি ও ১টি পন্টুন, বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জে ৩টি ফেরি ও ১টি পন্টুন, মোংলা নদীতে ১টি পন্টুন এবং মানিকখালীতে ১টি পন্টুন ও ১টি ফেরি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এসব ফেরি ও পন্টুনের অধিকাংশই রয়েছে পানির নিচে। এগুলো জোয়ারের পানিতে ডুবে যায় এবং ভাটায় জেগে ওঠে। আবার অনেক পন্টুনের বেশির ভাগই চলে গেছে মাটির নিচে। বটিয়াঘাটায় শোলমারী নদীতে ১টি পন্টুন সম্পূর্ণ মাটির নিচে চলে গেছে। ভাটার সময় শুধু দুটি লোহার পিলার দেখা যায়। এখানে স্রোত চলাচলে বাধার কারণে পলি পড়ে নদী ভরাট হয়ে এসেছে। গত ১৯৯৮ সালে এ নদীতে ব্রিজ উদ্বোধনের পর ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তারপর থেকে ১৮ বছর সেখানে ফেরি ও পন্টুন অকেজো হয়ে পড়ে আছে।
স্থানীয়রা জানায়—ফেরি ও পন্টুনের মালামাল বিভিন্ন সময়ে চুরি হয়ে গেছে। লোহার পাতগুলোও রাতের অন্ধকারে চোর কেটে নিচ্ছে। একইভাবে ঝঁপঝপিয়া নদী গর্ভে বিলীন হতে চলেছে তিনটি ফেরি।
এ ব্যাপারে খুলনা সওজের (ফেরি) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আ স ম শাহরিয়ার চৌধুরী বলেন, ‘সড়ক ও জনপথের মূল বিভাগ হচ্ছে ফেরি ও পন্টুনের মালিক। তাদের নিয়ন্ত্রণে ফেরি চলাচল করে। সড়ক ও জনপথের ফেরি বিভাগ শুধু ফেরি ও পন্টুন সংস্কার ও দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে। প্রতিটি সভায় অকেজো ফেরি ও পন্টুন সম্পর্কে অবগত করা হয়।’
অপরদিকে খুলনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, অকেজো ফেরি ও পন্টুন সম্পর্কে ইতোমধ্যে সার্ভে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ নিলামের প্রক্রিয়া শুরু করেছেন।
ইত্তেফাক/নূহু
