আলমডাঙ্গার নতিডাঙ্গা আবাসনের ছিন্নমূল বাসিন্দাদের দূরাবস্থা

আপডেট : ২৫ জানুয়ারি ২০১৮, ২৩:৪৪


প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থায়নে আলমডাঙ্গার বাড়াদি ইউনয়িনে মাথাভাঙ্গা নদী ঘেঁষে গড়ে তোলা নতিডাঙ্গা আবাসন প্রকল্পটি ১শ ৬০টি ছিন্নমূল পরিবারের বাসবাসপযোগী। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পর থেকে ১৬ টি টিন শেডে ১০ টি করে মোট ১শ ৬০টি পরিবার বসবাস করে আসছিল। আবাসনের পুরো এলাকা এইসব ছিন্নমূল মানুষদের পদভারে হয়ে উঠেছিল উৎসব মুখর। কিন্ত এই উৎসব তাদের মাঝে বেশীদিন টিকেনি। স্থানীয় দূর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসীদের নানা অপকর্ম ও নিপীড়নের শিকার হয়ে ৬০ টি পরিবার ইতোমধ্যে আবাসন থেকে উঠে চলে গেছে।

চলে যাওয়ার কারণ হিসেবে বসবাসকারীরা মুখ ফুটে কেউ কিছু বলতে রাজি হয়নি। স্থানীয় কিছু লোকের ভয়ে তারা অভিযোগ দিতে নারাজ। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জানিয়েছেন আবাসনটিতে স্থানীয় কিছু লোকের প্রভাব রয়েছে। এই প্রভাবশালীদের প্রতাপ সহ্য করেই এখানে থাকতে হয় বসবাসকারীদের। যারা উঠতি বয়সি মেয়েদের নিয়ে ঝামেলা এড়াতে চেয়েছেন, তারা আবাসন ছেড়ে চলে গেছেন। আবার স্থানীয় উটকো মাস্তানদের নজর এড়াতে বাল্য বিয়ের প্রচলন তীব্র আকারে রয়েছে আবাসনটিতে। মেয়ে একটু বড় হলেই অভিভাবকরা বিয়ে দিয়ে দেন। এখানে রাসেল নামের এক যুবকের হয়রানি সহ্য করতে না পেরে নজরুল ইসলামের মেয়ে পিংকীকে আত্মহত্যা করতে হয়।
IMG0
এখনও যারা বসবাস করে আসছেন তারা কেবল মাথা গোজার ঠাইটুকুই পেয়েছেন। সরকারি কোন অনুদান দুই বছর ধরে তারা পান না। হাঁড়কাপানো শীতে ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামগুলোতে চেয়ারম্যান মেম্বররা দলীয় ভিত্তিতে সরকারী কম্বল বিতরণ করেছেন। কিন্ত তাদের নজর আবাসন পর্যন্ত পৌছেনি। সত্তরোর্ধ মহিলারাও হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু হয়ে গেছে। আবার শৈত প্রবাহ আসছে এই খবরে শীতের ভয়ে আতকিংত হয়ে উঠেছেন আবাসনের ছিন্নমূল বাসিন্দারা।

আবাসনের বাসিন্দা সেলিম হোসেনের স্ত্রী সেলিনা বেগম ইত্তেফাককে জানান, আগে মেম্বররা তাদেরকে সরকারি কম্বল দিতেন। দুই বছর ধরে আবাসনের বাসিন্দাদের আর দেওয়া হয়না। ইসাহকের স্ত্রী মরিয়ম বেগম একই অভিযোগ দিয়ে বলেন, আমরা ভোটার। ভোট আসলেই ভোট দিই। কিন্ত আমাদেরকে কেউ কিছুই দেয় না।

এ ব্যাপারে আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান ইত্তেফাককে জানান, ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পরপরই প্রথম চালানের কম্বল পারকুলা আবাসনে দেওয়া হয়েছে। আবারো নতুন করে কম্বলের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। পরবর্তিতে কম্বল পাওয়া গেলে নতিডাঙ্গা আবাসনে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, আলমডাঙ্গার পারকুলা আবাসনে বসবাসকারী অসহায়দের দূরাবস্থা নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ার পর তাদের মাঝে কম্বল বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান। পারকূলা আবাসনের বাসিন্দরা কম্বল পেয়ে যারপরনাই আনন্দে আত্মহারা হয়ে উঠেছেন।

ইত্তেফাক/নূহু