ইবি ভিসির গাড়িতে হামলা

আপডেট : ২৬ জানুয়ারি ২০১৮, ১৪:২৫
 
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারীর গাড়িতে হামলা চালিয়েছে দুর্বত্তরা। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা থানাধীন বড়দাহ নামক স্থানে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক প্রাণে বেঁচে গেলেও ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেন, ‘ঢাকাতে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভা শেষে রাত ১০টায় আমি ক্যাম্পাসের উদ্দেশে রওনা দেই। আমার সাথে ব্যক্তিগত সহকারী রেজাউল করিম ও গাড়িচালক ফরহাদ ছিল। আমি সাধারণত কুষ্টিয়া হয়ে আসলেও এদিন ঝিনাইদহ হয়ে আসি। পথিমধ্যে রেজাকে বাড়িতে নামিয়ে দেই এবং আমার নিরাপত্তার জন্য রুট পরিবর্তন করি। রেজাকে বাসায় নামিয়ে যাত্রা করে গাড়াগঞ্জ পার হয়ে বড়দাহ নামক স্থানে পৌঁছালে পুরো রাস্তার জুড়ে বিশাল গাছ দেখতে পাই। হঠাত্ তিন-চারজন সন্ত্রাসী রামদা দিয়ে গাড়িতে হামলা করে এবং বামপাশের দুটি গ্লাস ভেঙে ফেলে। তখন আমার গাড়িচালক গাড়ি একটু সামনের দিকে নিয়ে গেলে আমি ও আমার গাড়িচালক ফরহাদ গাড়ি থেকে নেমে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে লুকিয়ে থাকি। একটু পরে সন্ত্রাসীরা আমাকে খুঁজে বের করে আমার কাছ থেকে টাকা চায়। আমি তাদেরকে গাড়িতে যেয়ে টাকা দেয়ার আশ্বাস দিলে আমাকে গাড়ির কাছে নিয়ে যায়। গাড়িতে গিয়ে আমি বলি, আমার মানিব্যাগ পাচ্ছিনা আপনারা আমার ল্যাপটপ নিয়ে যান। কিন্তু তারা আমার ল্যাপটপ নিতে অস্বীকার করে। এরপর তারা চলে গেলে আমি গাড়িতে উঠে বসি। আবার হামলা হতে পারে ভেবে গাড়ি থেকে নেমে পার্শ্ববর্তী এক বাড়িতে আশ্রয় নিই। তারা আমার পরিচয় পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা বাচ্চুর বাড়িতে নিয়ে যায়। এরপর কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ পুলিশ প্রশাসন আমাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।’
 
এ সময় তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, ঘটনাটি ডাকাতি নাকি পরিকল্পিত বুঝতে পারছি না, কারণ এ সময় অন্য কোনো গাড়িতে হামলা হয়নি। 
 
ভিসির ব্যক্তিগত গাড়িচালক ফরহাদ বলেন, ‘আমি গাড়ি থেকে নেমে দৌঁড়ে পাশের জঙ্গলে আশ্রয় নিই। একটু পরে টহলরত পুলিশ আসলে তাদেরকে ঘটনাটি খুলে বলি এবং আমার স্যারকে বাঁচানোর অনুরোধ করি এবং প্রক্টর স্যারকে ফোন দেই।’
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমি ঘটনাটি শোনা মাত্রই কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে অবহিত করি। এই ঘটনার মূলোত্পাঠন করে জড়িতদের আইনের আওতায়  এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির জন্য আমি সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের হস্তেক্ষেপ কামনা করি।’
 
শৈলকূপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন জানান, ‘ঘটনা শোনার সাথে সাথে আমি ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌছাই। ভিসি স্যারকে তার গাড়িসহ বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে দেই। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের বের করতে চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে।’
 
এই ঘটনার জের ধরে বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ মিছিল করে ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু পরিষদ শাপলা ফোরাম, জিয়া পরিষদ,  গ্রীণ ফোরাম, ইবি  সাংবাদিক সমিতি, ইবি প্রেস ক্লাব, ছাত্রলীগ ছাত্র ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন।
 

ইত্তেফাক/এএম।