রাবির উপ-রেজিস্টারের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দিয়ে ভর্তিচ্ছুর সাথে প্রতারণার অভিযোগ

আপডেট : ২৭ জানুয়ারি ২০১৮, ১২:৫৩
 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকে ভর্তি জন্য সজীব চন্দ্র বর্মণ নামে এক শিক্ষার্থীকে ভুল তারিখে ডেকে এনে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের উপ-রেজিস্টার মোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে। ভুল তারিখ জানিয়ে নির্দেশনা দেয়ায় ভর্তি হতে না পেরে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থীর জীবন। এদিকে তার জায়গায় অন্য কাউকে ওই উপ-রেজিস্টার ভর্তি করিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
 
জানা গেছে, ৬ষ্ঠ মেধা তালিকা প্রকাশের দিন বেলা ১১টার দিকে সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অধিকর্তার টেলিফোন (৭১১১৩০) নম্বর থেকে উপ রেজিস্ট্রার মোফাজ্জল হোসেন ৬ষ্ঠ মেধা তালিতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থী সজীব চন্দ্রকে কল করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেয়া নোটিশ অনুযায়ী ভর্তির শেষ তারিখ ২৪ জানুয়ারি হলেও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের টেলিফোন থেকে ওই শিক্ষার্থীকে কল করে ২৫ তারিখে আসার কথা জানান উপ-রেজিস্ট্রার। পরে ওই শিক্ষর্থী ২৫ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসলে তাকে আর ভর্তি হতে দেয়া হয়নি।
 
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে দেখা যায়, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তির জন্য সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের অপেক্ষমান ৬ষ্ঠ মেধা তালিকা গত ২৩ তারিখে বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। সেখানেই সজীবের নাম রয়েছে। নোটিশ মোতাবেক তার ভর্তি শেষ সময় ছিল ২৪ জানুয়ারি বিকেল চারটা। ২৩ তারিখে ৬ষ্ঠ মেধা তালিকা প্রকাশের একদিন পরেই (২৪ জানুয়ারি) ৭ম মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়। সেখানে নওরিন রহমান নিশি নামের এক শিক্ষার্থীকে ২৫ তারিখে ভর্তির জন্য নির্বাচিত করা হয়।
 
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সজীব চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘উপ-রেজিস্ট্রার স্যারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমি ২৫ তারিখে ভর্তি হতে আসি। কিন্তু এসে দেখি ভর্তির শেষ তারিখ ছিলো ২৪ জানুয়ারি। ফলে আমাকে ভর্তি করানো হয়নি। ফোনে কথা বলার সময় উপ-রেজিস্ট্রার আমাকে বারবার জিজ্ঞেসা করেন, আমি অন্য কোথায় ভর্তি আছি কি না। আমার মনে হয়েছে, তিনি আমার আসনে অন্য কাউকে ভর্তি করাতে চেয়েছেন। তাই আমাকে ভুল তারিখ বলেছেন। আমাকে যদি ভুল তারিখ না বলা হতো, তবে বিশ্ববিদ্যালয় ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তারিখ অনুযায়ী আমি ভর্তি হতে আসতাম।’
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-রেজিস্ট্রার মোফাজ্জল হোসেন জানান, ‘২৫ তারিখ কেন বলা হয়েছিল এই মুহূর্তে তো আমার মাথায় সেটা সেট করা নেই।’ তবে মোফাজ্জলকে সজীবের সঙ্গে কথপোকথনের রেকর্ড শোনানো হলে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এখানে (রেকর্ডিংয়ে) আমার কণ্ঠ ঠিকই আছে। সে ওয়েবসাইটে দেখে নাই, তার দায়িত্ব পালন করে নাই, এখন এ ব্যাপারে কিছু বলার থাকলে ডীনকে বলেন। ডীন যা বলার তা বলবেন।’
 
সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়াতে ৩য় অপেক্ষামান তালিকা প্রকাশের পর থেকেই ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগ করা হয়। শূন্য আসন অনুযায়ী অপেক্ষমান তালিকায় থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ভর্তি হতে ইচ্ছুক তাদেরকেই পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত মেধা তালিকায় রাখা হয়েছে। এ সংক্রান্ত একটি তালিকাও অনুষদ দফতরে রয়েছে। তালিকা অনুযায়ী, যাদেরকে ফোন করা হয়েছিল তাদের মধ্যে অনেকেই ফোন রিসিভ করেনি। তবে যারা ফোন রিসিভ করেনি তাদেরকে ছাড়াই মেধা তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে বলে অনুষদ দফতর থেকে জানানো হয়েছে।
 
সামাজিক অনুষদের ডীন অধ্যাপক ফয়জার রহমান জানান, ‘আাামি ওই শিক্ষার্থীর বিষয়টি শুনেছি। ইতোমধ্যে উপ-রেজিস্ট্রারের সঙ্গেও কথা হয়েছে। তিনি যে ভুল করেছেন সেটা সত্যি। তবে ওই শিক্ষার্থী ঘটনা আমাকে না জানিয়েই উপ-উপাচার্য মহোদয়কে জানিয়েছেন। এখন ওনারা হয়তো বিষয়টি তাদের মতো করে দেখবেন।’ ওই শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পেতে পারে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমি কিছুই বলতে পারছি না।’
 
রাবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা বলেন, ‘যে শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমনটি হয়েছে, সে যদি বিষয়টি উল্লেখ করে ডীনের কাছে আবেদন করে, তবে তার ভর্তির বিষয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’
 

ইত্তেফাক/এএম।