ইয়াবা বিক্রি ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু্ই মাদক ব্যবসায়ী পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যার পর আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের বরিয়ালী গ্রামে দুই গ্রুপের মাদক বিক্রেতাদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী এই সংঘর্ষে সাবেক এক নারী ইউপি চেয়ারম্যানসহ উভয়গ্রুপের কমপক্ষে ১২জন আহত হয়। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকা ও ৬জনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতাল ভর্তি করা হয়েছে। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। থানায় এক পক্ষের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র ও সজীবের শ্বশুর ফরহাদ হোসেন তালুকদার জানান, রত্নপুর ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হুসনে আরা বেগম ওরফে পেয়ারা বেগমের ছেলে রতন সন্যামত ও তার মেয়ে জামাতা ছাত্রদল নেতা সুমন শিকদার বাড়িতে বসে দীর্ঘ দিন যাবত ইয়াবা বিক্রি করে আসছিল। অন্যদিকে হুসনে আরা বেগমের দেবর পাশ্ববর্তী বাড়ির শাহীন আলম টেনুর ছেলে অপর মাদক বিক্রেতা সজীব সন্যামতের সাথে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বিক্রি ও এলাকায় আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে রতনের বিরোধ চলে আসছিল।
শনিবার রাতে সাবেক চেয়ারম্যানের মেয়ে জামাতা সুমন শিকদারের সাথে সজীব সন্যামতের বাকবিতণ্ডার এক পর্যায়ে সুমন সিকদারের ওপর সজীব ও তার লোকজন ধারালো রামদা ও হকিস্টিক নিয়ে হামলা চালায়। হামলার সময় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হুসনেয়ারা বেগম, তার মেয়ে সুমনা আক্তারকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষরা।
এসময় ছাত্রদল নেতা সুমন শিকদার, তার শ্যালক রতন সন্যামত, মানিক সন্যামত ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে শাহীন আলম টেনুর ছেলে সজীব সন্যামত, টেনুর স্ত্রী সালমা বেগম, মেয়ে শিমু বেগম, শ্যালক রাশেদ তালুকদারকে গুরুতর আহত করে।
রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে উভয় পক্ষের শাহীন আলম টেনু, তার এসএসসি পরীক্ষার্থী মেয়ে মিতু আক্তার, হুসনে আরা বেগমের মেয়ে সুবর্ণা বেগম, চাপা আক্তার, লিজা আক্তার, পার্শ্ববর্তী বাড়ির মিরাজ সন্যামতসহ ১২জন আহত হয়েছে।
গুরুতর আহতাবস্থায় উদ্ধার করে আগৈলঝাড়া ও গৌরনদী হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা সজীবকে ঢাকায় ও উভয় পক্ষের ৬জনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রাতেই পুলিশ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ ঘটনায় রবিবার সকালে শাহীন আলম টেনু বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা জানান, তিনি অফিসের কাজে জেলা শহরে রয়েছেন। থানায় ফিরে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানান তিনি।
ইত্তেফাক/এমআই
