চুরি করতে এসে অবশেষে চোরাই মোটরসাইকেলসহ স্থানীয়দের সহায়তায় আন্তঃজেলা সংঘবদ্ধ চোর চক্রের এক সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় অপর দুই সদস্য পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। আটক এনায়েত খান (২৫) মাদারীপুর সদর উপজেলার বালিয়া গ্রামের মৃত রশিদ খানের ছেলে।
থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত তিনটার দিকে উপজেলার বাশাইল এলাকায় সুমন মিয়ার বাড়িতে মোটরসাইকেলের তালা ভেঙ্গে নেয়ার সময় বাড়ির মালিক টের পেয়ে চোরদের ধাওয়া করে।
এসময় এএসআই শেখ ফরিদের নেতৃত্বে রাত্রিকালীন পাহাড়ারত পুলিশ সদস্যরা চোরের দলকে থামার নির্দেশ দেয়। আন্তঃজেলা চোরের দল মোটরসাইকেল না থামিয়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাদের পিছু ধাওয়া করলে সংঘবদ্ধ চোরের দল টিভিএস মোটরসাইকেল রেখে দৌড়ে পালানোর সময় পুলিশকে গুলি করারও হমকি দেয়। পরে চোর সদস্য এনায়েত খান (২৫) পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাশ্ববর্তী খালে কচুরীপানার মধ্যে লাফিয়ে পড়ে। এসময় চৌকিদারের পোশাক পরিহিত এক চোর সদস্যসহ অপর দুই চোর পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
এদিকে আত্মরক্ষার্থে চোর চক্রের সদস্য এনায়েত খান গোয়াইল গ্রামের শিকদার বাড়ির বাইরের বাথরুমে আত্মগোপন করা অবস্থায় ওই বাড়ির লোকজন বাথরুমে গেলে তাকে দেখতে পেয়ে আটক করে ডাক চিৎকার শুরু করে। ডাক চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে উত্তম মধ্যম দিয়ে টহল পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ গিয়ে এনায়েতকে আটক করে। আহত এনায়েতকে পুলিশি প্রহরায় হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে ভর্তি এনায়েত সাংবাদিকদের জানায়, তার সাথে একই এলাকার চোর চক্রের সদস্য খবির শেখ ও বেল্লাল মাতুব্বর ছিল।
থানার এসআই জাহিদুর রহমান জানান, সম্প্রতি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কয়েকটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় কবির মোল্লা বাদী হয়ে ১৭ জানুযারি অজ্ঞাতনামাদের আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় এনায়েতকে আসামি করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে প্রেরণ করা হবে। এছাড়া চোরদের ব্যবহৃত আটক করা টিভিএস মোটরসাকেলের মালিকানা যাচাই করা হবে। ওই মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর কালি দিয়ে অস্পষ্টভাবে মুছে তার ওপর ‘বাচ্চু মটর” সাইনবোর্ড টাঙানো রয়েছে।
ইত্তেফাক/এমআই
