কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার কারণে বরিশালের গৌরনদীর বড়কসবা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা আজ মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সোমবার সকালে গৌরনদীর টরকি বন্দর সংলগ্ন পালরদী নদীর পাড়ে অবস্থিত বড়কসবা আবাসন প্রকল্পে গিয়ে দেখা গেছে করুন চিত্র। আবাসন কেন্দ্রটি নদীরপাড়ে গড়ে ওঠার কারণে প্রচন্ড শীতের প্রকোপে এখানে বসবাসরত নারী-পুরুষ ও শিশুরা কাবু হয়ে গেছে। সরকারী কম্বল পাওয়া তো দুরের কথা, এ যাবৎ ব্যক্তিগতভাবেও কেউ তাদের কম্বল বা শীতবস্ত্র প্রদান করেনি!
আবাসন কেন্দ্রের বাসিন্দা বিধবা শেফালী বেগম (৮০), রেবা বেগম (৬০), মায়া বেগম (৫৫), কালাম হাওলাদার (৬৫) এবং আরো অনেকের অভিযোগ "এই শীতে মোরা মরছি না বাঁচছি, কেউ মোগো দ্যাহেনা”। মোরা কম্বল পাইনা, বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, ভিজিডি কার্ড কিছুই পাইনা। ভোডের সময় নেতারা আইয়া কইয়া গেছিল তোমাগোরে সব দিমু। কিন্তু ভোডের পর আর কেউ আইয়া খবর নেয়না!"
এখানকার সবকটি ঘরের চালা নষ্ট হয়ে গেছে! বৃষ্টি হলে ওপর দিয়ে পানি পড়ে! বাথরুমগুলো নষ্ট হয়ে গেছে বহু আগেই। স্থানীয়রা জানান, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর এ সব মেরামত বা সংস্কার করা হয়নি। এরপরেও নিরুপায় হয়ে এখানে বসবাস করছে ১০০টি দুস্থ পরিবার। এসব পরিবারে রয়েছে বিভিন্ন বয়সের প্রায় ৬ শতাধিক নারী-পুরুষ ও শিশুরা। এখানে সুপেয় পানি পানের জন্য পর্যাপ্ত টিউবওয়েল নেই।
আবাসন প্রকল্পে বিদেশী অর্থে একটি মসজিদ প্রতিষ্ঠা করা হলেও মুসুল্লীদের ওজু করার জন্য কোন টিউবওয়েল নেই। তাই বাধ্য হয়ে তাদেরকে দুরবর্তী নদীর পানিতে ওজু করতে হচ্ছে। অত্র আবাসন কেন্দ্রে দীর্ঘ একযুগেও কোন কবরস্থান বা শশ্মান নির্মান করা হয়নি। একারণে কোন লোক মারা গেলে তাদের বাধ্য হয়ে দুরবর্তী কোন কবরস্থান বা শশ্মানে লাশ দাফন বা সৎকার করতে হচ্ছে। এখানে ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া শেখার জন্য কোন স্কুল নেই। শিক্ষা গ্রহণ করতে হলে এখানকার শিশুদের ২ থেকে ৩ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে স্কুলে যেতে হয়। একারণে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অধিকাংশ শিশুরা।
এখানকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তার জন্য আবাসন প্রকল্পের চারদিকে এখনও নির্মিত হয়নি বাউন্ডারি ওয়াল। আবাসন প্রকল্পের পুকুরের ২ প্রান্তে ঘাটলা থাকলেও অন্য ২ পাশে ঘাটলা না থকায় বাসিন্দাদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। টরকীর চর থেকে আবাসন কেন্দ্রে প্রবেশের প্রধান সড়কটিরও বেহাল দশা। দীর্ঘদিনে এটি মেরামত না করার কারণে যাতায়াতের ক্ষেত্রে এখানকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
বড়কসবা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দারা তার সমস্যা লাঘবের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বড় কসবা আবাসন প্রকল্পের সভাপতি মোঃ আবুল কাশেম (৪৫) বলেন, সিডরের সময় আপনারা মোগো কথা পেপারে লেখছিলেন। ওই সময় সেনাবাহিনীরা আইয়া মোগো অনেক সাহায্য দিছিল। হের পরে মোগো খবর কেউ নেয় না। এখানে ৩০ থেকে ৩৫ জন বিধবা ও বয়স্ক নারী থাকলেও তারা বয়স্কভাতা বা বিধবা ভাতা পান না।
এ ব্যাপারে গৌরনদী পৌরসভার কাউন্সিলর মোঃ খাইরুল আহসানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বড়কসবা আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের আমরা সাধ্যমত সাহায্য প্রদান করছি। এখানে সমস্যা আছে অচিরেই তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হবে বলে তিনে অভিমত ব্যক্ত করেন।
ইত্তেফাক/নূহু
