তাড়াশে ফসলি জমিতে পুকুর খননের হিড়িক!

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৮, ০৪:৩০

তাড়াশে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর থেকে উর্বর ফসলি জমি কেটে পুকুর খননের হিড়িক পড়েছে। উপজেলাজুড়ে গত ৫-৬ বছরে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক পুকুর খনন করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে প্রতিবছরই আশঙ্কাজনক হারে কমছে রবিশস্য আবাদ।

সরেজমিনে জানা যায়, ফসল উত্পাদনে যথেষ্ট শ্রম দিয়েও কাঙ্ক্ষিত লাভ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন কৃষকরা। অধিক লাভের আসায় উর্বর ফসলি জমি কেটে পুকুর খনন করে তুলনামূলক ঝামেলাহীন অর্থ উপার্জনে অতি উত্সাহী হয়ে উঠছেন তারা। এসব পুকুরে নিজেরা মাছ চাষ করছেন, আবার কেউবা মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে মত্স্য চাষিদের কাছে লিজ দিচ্ছেন। পুকুর খননের ফলে একদিকে যেমন ফসলি জমির শ্রেণি পরিবর্তন হচ্ছে অন্যদিকে, শস্যভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলায় খাদ্য উত্পাদন ব্যাপকহারে কমতে শুরু করেছে।

এদিকে খাল-বিল, নয়নজুলি ও জলধারগুলো ক্রমান্বয়ে দখল ও ভরাটের কারণে যেমন পরিবেশের ভারসাম্যতা নষ্ট হচ্ছে, তেমনি পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে বাড়ছে জনদুর্ভোগ। গণহারে ব্রিজের মুখে মাটি ফেলে মাছ চাষ ও বসতভিটা তৈরি করা হচ্ছে। আর সড়কের ধারে যেসব পুকুর খনন হচ্ছে সেখানে সড়কগুলোকে পুকুরের পাড় হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলার ২৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি।

উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ৫-৬ বছরে উপজেলার আটটি ইউনিয়নে ৫১৫টি পুকুর খনন হয়েছে। ২০১৬ সালে জলাবদ্ধতায় দুই হাজার দুইশ হেক্টর জমিতে রবিশস্য আবাদ করা সম্ভব হয়নি। ২০১৭ সালে জলাবদ্ধতার কারণে আরো তিন হাজার হেক্টর রবিশস্য আবাদ কম হয়েছে। এ ছাড়া জলাবদ্ধতার কারণে একই বছর ২৯ হাজার বিঘা জমির রোপা আমন ধান পানিতে তলিয়ে একেবারে পচে যায়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি খাদ্য উত্পাদন হয় তাড়াশে। নীতিমালা লঙ্ঘন করে পুকুর খননের ফলে ফসলি জমির পরিমাণ আশঙ্কাজনক হারে কমে আসায় ফসল উত্পাদন প্রতিবছর হ্রাস পাচ্ছে। আর খাল-বিল, নয়নজুলি দখল ও ভরাট করায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠে অসময়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আহসান হাবীব জিতু বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী অনুমতি ছাড়া ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শীঘ্রই এসব বন্ধে প্রয়োজনীয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/নূহু