বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিরোবি) প্রতিবছর ১ম বর্ষে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদেরকে স্বাগত জানাতে নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবছরের মতো এবারো ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেয়ার জন্য জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে এবারে নবীন শিক্ষার্থীদেরকে বরণ করে নিতে 'নবীনবরণ' অনুষ্ঠানের পরিবর্তে 'উদ্বোধনী সমাবর্তন' এর আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আজ বুধবার দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে উদ্বোধনী সমাবর্তন।
নবীন শিক্ষার্থীদেরকে বরণ করতে 'নবীনবরণ' এর পরিবর্তে 'উদ্বোধনী সমাবর্তন' ব্যবহার করা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিতরে এবং বাইরে চলছে ব্যাপক সমালোচনা। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া সীমা বলেন, "আমরা নরমালি যেটা জানি সেটা হলো যারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডিগ্রী নিয়ে বের হয়ে যায় তাদেরতে পুনরায় মিলিত করার জন্য যে অনুষ্ঠান করা হয় সেটিকে 'সমাবর্তন' হিসেবে বলা হয়। কিন্তু এখানে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ করার ক্ষেত্রে 'সমাবর্তন' শব্দটি কেন ব্যবহার করা হচ্ছে সেই প্রশ্নের উত্তরটি আমারও জানার ইচ্ছা।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী এর সভাপতি ওয়াদুদ সাদমান বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে আমি নিজেও সন্দিহান। প্রশাসন কি মনে করে এমনটা করেছেন তা বুঝতে পারছি না।' বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নোবেল শেখ বলেন, 'এবারে নবীন শিক্ষার্থীদেরকে বরণ করতে ব্যতিক্রমী আয়োজন করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এজন্য প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।'
এই 'উদ্বোধনী সমাবর্তন' এর পরিবর্তে 'নবীনবরণমূলক' শব্দ প্রতিস্থাপনের জন্য অনুরোধ জানিয়ে উপাচার্য বরাবর একটি চিঠি লিখেছেন বিশিষ্ট লেখক, গবেষক এবং বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তুহিন ওয়াদুদ। চিঠিতে তিনি বলেন, "আমি মঙ্গলবার ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকৃতের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পত্র পেয়েছি। আমন্ত্রণ পত্রে বরণমূলক অনুষ্ঠানটিকে 'উদ্বোধনী-সমাবর্তন' বলা হয়েছে। বাংলা একাডেমির অভিধান অনুযায়ী 'সমাবর্তন' শব্দটির অর্থ 'বরণমূলক' কোন কিছুকে বোঝায় না। তাই নবাগত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আয়োজিত মহতী অনুষ্ঠানের নামকরণমূলক 'উদ্বোধনী সমাবর্তন' এর স্থলে 'নবীনবরণমূলক' শব্দ প্রতিস্থাপনের জন্য অনুরোধ করছি।"
রংপুর সরকারী কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শাহ আলম বলেন, 'সমাবর্তন শব্দটির আলাদা একটি গাম্ভীর্যতা আছে, আলাদা একটি গভীরতা আছে। নবীনবরণ আর সমাবর্তন তো এক হতে পারে না।'
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী কুমার সুমন বলেন, 'বিষয়টি শোনার পর প্রথমেই একটি খটকা লাগে। কারণ, প্রথাগত কারণেই হোক আর যে কারণেই হোক 'সমাবর্তন' শব্দটি দ্বারা আমরা সাধারণত ডিগ্রীধারীদেরকে নিয়ে অনুষ্ঠান করা বুঝি। তবে আমরা আশা করব প্রশাসন ডিগ্রীধারীদের নিয়েও খুব তাড়াতাড়ি একটি সমাবর্তনের আয়োজন করবে।'
এদিকে অনুষ্ঠানটিকে ঘিরে জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র প্রকাশ, নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ, অভিভাবক সমাবেশ, আলোচনা অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। এছাড়া নবীন শিক্ষার্থীকে সমাবর্তনে প্রবেশের পূর্বেই তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড প্রদান করা হবে বলে জানা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এবং 'উদ্বোধনী সমাবর্তন' অনুষ্ঠানের আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব তাবিউর রহমান প্রধান বলেন, "আমরা কখনোই শুধু 'সমাবর্তন' শব্দটি ব্যবহার করিনি। আমরা সবসময় 'উদ্বোধনী সমাবর্তন' কথাটি বলেছি। আর এই অনুষ্ঠানের জন্য রাষ্ট্রপতি যেখানে বাণী দিয়েছেন সেখানে বিষয়টি নিয়ে আর তেমন কিছু বলার থাকে না।"
ইত্তেফাক/এসএস
