তীব্র শীত ও কুয়াশায় বোরো ক্ষেত বিনষ্ট, বিপাকে চাষি

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০২:১৭

ঝিনাইদহ জেলায় বৈরি আবহাওয়ার কারণে আগাম রোপণ করা বোরো ধানের চারা মরে গেছে। এতে উত্পাদন ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করা যাচ্ছে। এবার এ জেলায় মসুর, সর্ষে, সবজিসহ বিভিন্ন শীতকালীন ফসলের আবাদ মার খায়। এতে চাষিরা বোরো চাষে ঝুঁকেছে। তাছাড়া ধানের দাম বেশি থাকায় চাষিরা বোরো চাষ বাড়িয়ে দিয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলায় ৮২ হাজার এক’শ ৪৪ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। চাষি এবার আগাম বোরো চাষে নেমে পড়ে। জানুয়ারিতে চারা রোপণ শুরুর পরপরই শুরু হয় তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা। টানা শীত ও কুয়াশা সহ্য করতে পারে না কচিকচি চারাগুলো। অনেক ক্ষেতের চারা মরে হলুদ হয়ে আছে। কোনো কোনো চাষি মরে যাওয়া চারাগুলো উঠিয়ে ফের নতুন চারা রোপণ করছে। কেউ ওভাবেই রেখেছে। এতে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শৈলকুপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামের চাষিরা বলেন, যারা চারা আগে লাগিয়েছিল তাদের জমির অনেক চারা মরে গেছে। যারা শীত কমার পর লাগিয়েছে তাদের কোনো সমস্যা হয়নি।

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় কুমার কুন্ডু বলেন, ধানের চারা অত্যাধিক কুয়াশা ও শীত সহ্য করতে পারে না। মরে যাওয়া চারা তুলে ফেলে নতুন চারা রোপণের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এতে চাষ নাবি হবে।

কটিয়াদীতে কোল্ড ইনজুরিতে বোরো বীজতলা

কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) সংবাদদাতা

কটিয়াদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো বীজতলা ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে ধানের চারাসমূহ হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। এনিয়ে চাষিরা পড়েছে বিপাকে। শীত রোগে আক্রান্ত হয়ে অনেক বীজতলার চারা নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়া ক্ষেতে রোপণ করা ধান গাছও কোল্ড ইনজুরিতে পড়ে বিবর্ণ হয়ে পড়েছে।

কটিয়াদী কৃষি অফিসের মতে এ উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে মোট ১২ হাজার ৪’শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। জমি আবাদের জন্য ৬’শ ১৫ হেক্টর জমিতে বোরোর বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। এ অবস্থা নিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

কটিয়াদী পৌর এলাকার বীরনোয়াকান্দি গ্রামের তোতা মিঞা জানান, বীজতলায় বীজধান ফেলার পর চারা ভালো গজায় কিন্তু শীতে চারা ঝলসে হলুদ বর্ণ ধারণ করেছে। যারা চারা রোপণ করেছে তাদের চারা বাড়ছে না।

উপজেলা কৃষি অফিসের মতে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারণে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে রোপণ করা ধান বাড়তে শুরু করবে। জমিতে প্রয়োজনীয় সালফার হেমিডর ও সাদিদ ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এ নিয়ে শঙ্কিত হবার কারণ নেই।

ইত্তেফাক/নূহু