পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসন

‘ধূমপানমুক্ত’ মুক্তবাজার

আপডেট : ০১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৯:০৪
 
বাজারটির নাম ‘মুক্তবাজার’। এই বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পণ্যই পাওয়া যায়। ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রেও নেই বাধা নিষেধ নেই। কেবল বিড়ি-সিগারেট বিক্রির ক্ষেত্রে রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। ধূমপানসহ মাদক দ্রব্য সেবনে রয়েছে কঠোর সর্তকতা।
 
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাপিলা ইউনিয়নের মহারাজপুর গ্রামে বাজারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ২০১০ সালে। বাজারটিতে সাত বছর ধরে চলছে এই অনুশাসন। ওই বাজার কমিটির সভাপতি মজিবুর রহমান জানান, ধূমপানমুক্ত বাজার গড়ে ওঠার নেপথ্যে রয়েছে পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসন।
 
সম্প্রতি বাজারটিতে গিয়ে দেখা গেছে, পরিচয় গোপন করে দুই ব্যক্তি ‘বাবুল স্টোর” নামে একটি দোকান থেকে এক শলাকা সিগারেট কিনতে চান। দোকানী জানান, এই বাজারে বিড়ি-সিগারেট বিক্রি করা হয় না।
 
পাশের দোকান থেকে দিয়াশলাই চাইতেই দোকানী রেজাউল করিম জানান, এই বাজারে ধূমপান করা নিষেধ। এই অনুশাসন এলাকার মানুষ জানেন। আপনারা নতুন তাই সতর্ক করা হলো। ভুলেও বাজারের ভেতর প্রকাশ্যে ধূমপান করবেন না। ওই দোকানীর ভাষ্যমতে, এই বাজারে বহিরাগত ধূমপায়ীদের প্রকাশ্যে ধূমপান না করতে এভাবেই সতর্ক করা হয়।
 
মুক্তবাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম জানান, মুক্তবাজার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই গ্রামের মানুষের সাথে একাধিক বৈঠক করা হয়। বৈঠকে মুক্তবাজারে প্রকাশ্যে ধূমপান না করার বিষয়ে এলাকাবাসী একমত হন। শুরুতে প্রতিটি দোকানে সচেতনামূলক ‘প্রকাশ্যে ধূমপান করা নিষেধ’ লেখা সংবলিত ব্যানার-স্টিকার ঝুলানো হয়। একপর্যায়ে দোকানগুলোতে বিড়ি সিগারেট ক্রয়-বিক্রয় বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় বাজার কমিটি।
 
বাজার কমিটির সদস্য মোসাদ্দেক আলী জানান, মুক্তবাজারকে ঘিরে মহারাজপুর গ্রাম। ওই গ্রামে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের বসবাস। যুগযুগ ধরে গ্রামটিতে রয়েছে পারিবারিক ও সামাজিক অনুশাসন। রয়েছে সম্প্রীতি। একারণে গ্রামটি মাদকমুক্ত।
 
চাপিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলাল উদ্দিন সত্যতা নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে বলেন, ‘মুক্তবাজার’ এবং মহারাজপুর গ্রামটি কলহ ও মাদকমুক্ত। তাদের অনুসরণ করে তার ইউনিয়নটি গড়ার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
 
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনির হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, মুক্তবাজারে প্রকাশ্যে ধূমপান করা হয় না এমন খবর শুনেছি। সময় করে বাজারটি পরিদর্শন করা হবে। বাজার কমিটির সাথে কথা বলে মডেল হিসেবে তাদের উদ্যোগটি উপজেলায় ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হবে।
 
ইত্তেফাক/আরকেজি