নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার সোনাকুড়া সিঅ্যান্ডবি বাজারের পাশে ইটভাটার মালিক হাজী আছর আলী সরকার ২০১৬ সালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে ইটভাটার পাশে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন। বিভিন্ন জেলা থেকে এই ইটভাটায় প্রতিবছর কাজ করতে আসেন নারী ও পুরুষ শ্রমিকরা। সেইদিকটা চিন্তা করে ইটভাটায় ঝরে পড়া শিশুদের জন্য নিজস্ব জমিতে একটি টিনশেড ঘর করে 'পোড়ামাটির স্কুল' নামে একটি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।
ইটভাটার শ্রমিকরা কাজে চলে গেলে কোমলমতি শিশুরা সারাদিন খেলাধুলা নিয়েই সময় কাটাত। এতে করে শিশুরা শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হতো। এখন সেই শিশুরা পোড়ামাটির স্কুল থেকে লেখাপড়া করার পাশাপাশি আনন্দ বিনোদন নিচ্ছে। সকাল সাড়ে ৯টায় ক্লাস শুরু হয়ে শেষ হয় দুপুর ১২টায়। স্কুলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মোট ২৮ জন। এরমধ্যে ছাত্র ১৬ জন ও ছাত্রী ১২ জন। ইটভাটার মালিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুলড্রেস, বই, খাতা, কলম, টিফিন ফ্রি সহ বিনা বেতনে লেখাপড়া করিয়ে যাচ্ছেন। এখানে প্রতিদিন বাংলা, অংক, ইংরেজি, ধর্মীয় বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। স্কুলটি সপ্তাহে ৬দিন খোলা থাকে। এই স্কুলে আশরাফুল ইসলাম পলাশ ও মানছুরা বর্তমানে নিয়মিত পাঠদান করাচ্ছেন শিক্ষার্থীদের।
স্কুল প্রতিষ্ঠাতা বলেন, 'স্থায়ীভাবে জমি বরাদ্দ দিয়ে অবকাঠামো পরিবর্তন করে। শিশু শ্রেণী থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত উন্নতি করবো। কিশোরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ফরিদপুরের কর্মরত ইটভাটার মহিলা ও পুরুষ শ্রমিকদের সন্তানেরা বছরে সাত মাস এখানে অবস্থান করে। পাঁচ মাস দেশের বাড়িতে থাকাকালীন পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত হয়।' তিনি আরও বলেন, 'ইটভাটায় কাজ করতে এসে এখানে শ্রমিকদের সন্তানেরা স্কুলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পায় না। এলাকাবাসীসহ এই সুবিধা বঞ্চিত ছেলে-মেয়েরা শিক্ষা থেকে যাতে ঝরে না পড়ে সেদিক চিন্তা করে আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি।'
IMG0
এলাকাবাসী ও ইটভাটার শ্রমিকরা বলেন, 'এই মহান উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। এই পরিবেশে আমাদের সন্তানদের লেখাপড়া করাতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।'
ইত্তেফাক/এসএস
