পাংশা শহর রক্ষা বেড়িবাঁধের জায়গা দখল করে অবৈধ বালি ব্যবসা

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০০:৫৫

শহর রক্ষা বেড়িবাঁধের জায়গা দখল করে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা অবৈধ বালি ব্যবসা চালিয়ে আসছে। বেড়িবাঁধের পাশে বালির স্তূপ ও বাঁধের রাস্তা দিয়ে ভারি ট্রাক, শ্যালোচালিত ভটভটি দিয়ে বালি আনা- নেওয়ার ফলে বেড়িবাঁধ ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সেইসাথে বেড়িবাঁধ এলাকার প্রায় এক হাজারেরও বেশি পরিবার রয়েছে চরম দুর্ভোগে ।

পাংশা উপজেলার হাবাসপুর ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বসতি বাড়িঘর ও ফসলি জমি রক্ষার জন্য ১৯৮৯ সালে সরকার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে। এই বেড়িবাঁধের জায়গা দখল করে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ বালির ব্যবসা চালাচ্ছে। বালি ব্যবসায় বাধা হওয়ায় জোর করে অনেকগুলো বসতবাড়ি উচ্ছেদ করে দিয়েছে। প্রতিদিন প্রায় শতাধিক ভারী বালিবাহী ট্রাক, শ্যালোচালিত ভটভটি ও অন্যান্য ইঞ্জিনচালিত গাড়ি চলাচলের কারণে বেড়িবাঁধের অধিকাংশ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেইসাথে বালি বাতাসের সাথে মিশে যাওয়ায় অসহনীয় ভোগান্তিতে রয়েছে এলাকাবাসী।

স্থানীয় রমজান আলী জানায়, ট্রাক ও শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটির শব্দে ঘুমাতে পারি না। রান্না খাবার, পানিসহ কোন কিছুই খেতে পারি না। ধুলো-বালি খেয়েই পেট ভরে যায়। বালি ব্যবসার কারণে এই এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এখানকার শিশুদের নাকে-মুখে বালির ছাপ লেগেই থাকে।

গৃহবধূ রেশমি খাতুন জানায়, রান্না করে রাখলে বাতাসে বালি উড়ে গিয়ে খাবার নষ্ট হয়ে যায়। ঘরের বিছানা-কাঁথা ময়লা হয়। প্রতিদিন তো আর পরিষ্কার করা যায় না।

এলাকাবাসী জানায়, বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে বিভিন্ন পরিবহন যাতায়াত করায় হুমকির মুখে রয়েছে শহররক্ষা বাঁধটি। এবারের বর্ষা মৌসুমে এই বেড়িবাঁধ ধসে গেলে পাংশা উপজেলাসহ আশপাশের প্রায় ৪০টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে যাবে। তাই প্রশাসনের কাছে তাদের জোর দাবি বালির চাতালগুলো অতিদ্রুত অপসারণ করা হউক।

পাংশা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি এলাকার জনপ্রতিনিধিরা তাকে জানিয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।

ইত্তেফাক/নূহু