উত্তরায় পুলিশকে ঢাল করে ইয়াবা ব্যবসা!

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:৫৩
 
গতকাল রাজধানীর উত্তরায় একটি ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকা পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টরের পাশের রুম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১০ হাজার পিস ইয়াবা। এ সময় গ্রেফতার করা হয়েছে ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া এনায়েত করিম মিঠুসহ ৪ জনকে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের অভিযানকারী টিম জানিয়েছে, বিমানবন্দর থানায় কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর সুমন শিকদার গত বছরের এপ্রিলে এনায়েত করিম মিঠুর মাধ্যমে এখানে সাবলেটে উঠেন।
 
অধিদফতরের ঢাকা মেট্রো অঞ্চলের (উত্তর) সহকারী পরিচালক মোঃ খুরশিদ আলম বলেন, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল বিকালে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের গরীবে নেওয়াজ সড়কের ৩৫ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অভিযান চালাই। এখান থেকেই উদ্ধার করা হয় ইয়াবাগুলো। এগুলো বাসার সোফার কুশনের মধ্যে রাখা ছিল। ফ্ল্যাটটি তিন বছর আগে ভাড়া নেন গ্রেফতারকৃত এনায়েত করিম মিঠু।
 
অভিযানের শুরুতে এনায়েত করিম মিঠু জানান, তারা গার্মেন্টসের এক্সেসরিজের ব্যবসা করেন। মাদক ব্যবসার কারো সাথে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। এ সময় গর্বের সাথে বলতে থাকেন আমাদের পাশের রুমেই পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টর বসবাস করেন।
 
সহকারী পরিচালক খুরশিদ আলম বলেন, মিঠুর কথা শুনে আমরা কিছুটা দ্বিধায় পড়ে যাই। কিন্তু আমরা সোর্সের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হই। এরপর আমরা অভিযান চালাই। এ সময় কুশনের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় ঐ ১০ হাজার পিস ইয়াবা। পরে ফ্ল্যাটের একটি বাথরুম থেকে আটক করা হয় ইয়াবা সেবী রাব্বিকে। এছাড়া গ্রেফতার করা হয় মিঠুর সহযোগী তম্ময় ও রিপনকে। পরবর্তীতে গ্রেফতারকৃতরা স্বীকার করে যে তারা এক্সেসরিজ ব্যবসার আড়ালে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে। অপরদিকে ভবনের কেউ যাতে কোনোরকম সন্দেহ করতে না পারে সে জন্য বিমানবন্দর থানার সাব-ইন্সপেক্টরকে সাবলেটে একটি রুম ভাড়া দেয়া হয়েছিল।
 
খুরশিদ আলম আরও বলেন, বিমানবন্দর থানার ওসির সাথে যোগাযোগ করার পর সাব-ইন্সপেক্টর সুমন শিকদার আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। পরে তার উপস্থিতিতে তার রুমটিও তল্লাশি করা হয়। তবে সেখান থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। জিজ্ঞাসাবাদে সুমন শিকদার বলেন, ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া এনায়েত করিম মিঠু তার পূর্ব পরিচিত। সেই সূত্র ধরে গত এপ্রিলে তিনি সাবলেট আসেন। তবে মিঠুর ইয়াবা ব্যবসার কথা তিনি জানেন না। অপরদিকে গ্রেফতারকৃত ইয়াবা সেবী রাব্বি জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে যে, তার মত অনেকেই এ ফ্ল্যাটে এসে নিয়মিত ইয়াবা সেবন করে।
 
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় সাব-ইন্সপেক্টর সুমন শিকদারকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। তবে তদন্তে প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ নুর-ই আজম জানান, গতকাল বিকালে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের ফোনে তিনি জানতে পারেন সাব-ইন্সপেক্টর সুমন শিকদারের পাশের রুম থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা জব্দ হয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।
 
এ ব্যাপারে সুমন শিকদারের সাথে কয়েকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ