জয়পুরহাট চিনিকলে মাড়াই শুরুর ৪৮ দিনের মাথায় আখ না থাকায় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শুরু হয়েছিল দেশের বৃহত্তম চিনি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানটির ৫৫তম মাড়াই মৌসুম। এসময় চিনিকলটিতে প্রায় ৩শ' কোটি টাকা লোকসানের বোঝা ছিল।
এবার ৬৫ হাজার মেট্রিকটন আখ মাড়াই করে ৪ হাজার ৮শ' ৫০ মেট্রিকটন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছিল। কিন্তু ৬১ হাজার ৯২ মেট্রিকটন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার ৮৮০ মেট্রিকটন চিনি উৎপাদন করা হয়েছে। চিনি আহরণের শতকরা হার ছিল ৬ দশমিক ৩৫। আখের অভাবে ৩০ জানুয়ারি জয়পুরহাট চিনিকলের চলতি মৌসুমের আখ মাড়াই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
চিনিকল সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট চিনিকলের এ পর্যন্ত ৫৫টি মাড়াই মৌসুমের মধ্যে ৩৩টি মৌসুমে লোকসান হয়েছে ২শ' ৯৫ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা। সদ্য সমাপ্ত হওয়া মাড়াই মৌসুমের লোকসানের হিসাব না হলেও বর্তমানে জয়পুরহাট চিনিকলে ৩ হাজার ৮শ' ৮৭ দশমিক ৮৫ মেট্রিকটন চিনি অবিক্রীত রয়েছে।
জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মোস্তাফা কামাল ইত্তেফাক'কে জানান, আখের মূল্য পরিশোধে আগে সমস্যা থাকলেও বর্তমানে নেই। আখ সারা বছরের ফসল। একই জমিতে বছরে চার বার বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন ও দাম ভাল পাওয়ার কারণে আখের চাষ কম হচ্ছে। ফলে আখের অভাবে মিল চালুর ৪৮ দিনের মাথায় মাড়াই সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। আখের মূল্য বৃদ্ধি করার কারণে কৃষকদের মাঝে বর্তমানে আখ চাষে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে বলে জানান তিনি। চিনিকলের অপর এক সূত্র জানায়, সরকারের নিকট ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে আড়াই শ' কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
ইত্তেফাক/এসএস
