বিএনপি-জামায়াতের ৮০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার ৩

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৫:৫৭
লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে পুলিশের ওপর আক্রমণ করার অভিযোগে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিনসহ বিএনপি-জামায়াতের ৮০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। আজ সোমবার সকালে রামগতি থানার এসআই মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। আটককৃত তিনজনকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। 
 
মামলায় উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক শিবলী নোমান, যুগ্ম- আহ্বায়ক মো. জমির আলী এবং উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ও পৌর কাউন্সিলর আবদুর রহিমসহ ২০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫০-৬০জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর আগে রবিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার আলেকজান্ডার ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বালুর চর এলাকায় জামায়াত নেতা আবুল ফারাহর বাড়ি থেকে বিএনপি-জামায়াতের তিন নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। ওই বাড়িতে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের গোপন বৈঠক চলছিল বলে পুলিশ জানায়।
 
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও চর আবদুল্যাহ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবদুর রব, রামগতি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবদুল ওয়াহেদ এবং আলেকজান্ডার ইউনিয়ন জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল ফারাহ।
 
মামলার বাদী রামগতি থানার এসআই মাঈন উদ্দিন জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রায়কে কেন্দ্র করে ২০ দলীয় ঐক্যজোটের নেতাকর্মীরা অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য বালুরচর এলাকায় জামায়াত নেতা আবুল ফারাহর বাড়িতে গোপন বৈঠক করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর চড়াও হন এবং গালমন্দ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুলিশকে আক্রমণ করেন এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এসময় নিক্ষিপ্ত ইট-পাটকেলের আঘাতে পুলিশের কনস্টেবল মজিবর রহমান ও কাজী ইকবাল হোসেন আহত হন। পরে পুলিশ লাঠিচার্জ করে নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে তিনজন গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। অন্যরা পালিয়ে যান।
 
রামগতি থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন জানান, গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
 
এদিকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন জানান, আবদুর রব, আবদুল ওয়াহেদ ও আবুল ফারাহকে তাদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আবুল ফারাহর বাড়িতে গোপন বৈঠকের অভিযোগ পুলিশের সাজানো। হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই মিথ্যা মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তিনি মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি করেন।
 
ইত্তেফাক/কেকে