সাতকানিয়ায় আলুর আগাম চাষে ফলন ভাল

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৩:৪১
শীত মৌসুমকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের সবজি চাষিরা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। উপজেলার ১৭ ইউনিয়নের পাহাড়ি ও উচ্চ-সমতল ভূমিতে আগাম গোলআলু, মুলা, বেগুন, শিম, বরবটি, মরিচ, লাউ, শসা ইত্যাদি চাষ করে ভালো ফলনের আশায় দিনের পর দিন কাজ করে যাচ্ছেন চাষিরা। আবার অনেক চাষি এক ফসলি জমিতে তিন ফসল চাষ করছেন। মাচান এ ঝুলছে শিম, লাউ, বরবটি বেগুন, আর মাটির নিচে গোলআলু। এ ধরণের সবজি ফলিয়ে উপজেলার অনেক সবজি চাষি স্বাবলম্বীও হয়েছেন।
 
ক্ষেতের এসব সবজি চাষ করে সাংসারিক খরচ মিটিয়ে বাড়তি কিছু ও সঞ্চয় করছেন। শ্রম ও খরচ কম হওয়ায় এ ধরণের সবজি চাষ সাতকানিয়া সবজি চাষিদের ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। অপরদিকে গোলআলু চাষি যাদের ক্ষেতে পাতা মোড়ানো রোগ দেখা দিয়েছে তাদের ঘুম নেই চোখে। যারা অন্যের কাছে ধার দেনা করে সংসার চালাতো তারা আর অন্যের মুখাপেক্ষী হন না বলে সবজি চাষিরা জানান। ইউনিয়নে নিয়োজিত উপজেলার উপসহকারী কর্মকর্তার পরামর্শে এক ফসলি জমি হয়েছে তিন ফসলি। যে জমিতে আগে মাত্র একবার ধানি ফসল বা সবজি ফলতো এখন সে জমিতে ১২ মাস ফলছে নানা প্রকার শাকসবজি ও মৌসুমি ফল।
 
সরজমিন পরিদর্শনে উপজেলার সোনাকানিয়া ইউনিয়নের হাতিয়ারকুল এলাকার বিল ও কালামিয়া পাড়ার পশ্চিমের পাহাড়ের গিয়ে দেখা যায় পাহাড়ের পাদদেশে শীতকালীন সবজি গোলআলুর চাষ।কিছু পরিপক্ব আবার কিছু এখনো অপরিপক্ব ক্ষেত। যারা আগাম গোলাআলু চাষ করছেন তাদের ফলন যথেষ্ট হয়েছে। আগাম যারা চাষ করেছেন তারা এখন ক্ষেত থেকে গোলআলু তুলছেন।
 
হাতিয়ারকুল এলাকার আগাম গোলআলু চাষি সোনা বড়ুয়া ইত্তেফাককে জানান, তিনি ৩০ শতক জমিতে গোলআলু চাষ করছেন। বিগত ৮ দিন আগে থেকে গোলআলু ক্ষেত থেকে তুলে বাজারে বিক্রি করেছেন। এ ক্ষেত করতে তাহার শ্রম সহ মোট খরচ হয়েছে ৮ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত তিনি ৬ হাজার টাকার গোলআলু বিক্রি করেছেন। ক্ষেতের সমস্ত গোলআলু বিক্রি করতে পারলে আনুমানিক ১২ হাজার টাকা আয় হবে বলে সবজি চাষি সোনা বড়ুয়া জানান। সরকারি ভাবে তিনি কৃষি ঋণ পেয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি জানান, এখনো পর্যন্ত কোন প্রকার সরকারি ঋণ পাননি।
 
ইউনিয়নে  সাইরতলি এলাকার মরিচ চাষী ও মির্জাখীল আনোয়ারে রহমানিয়া মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্র মোহাম্মদ ফরহাদ জানান, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও ২৪ শতক জমিতে মরিচ চাষ ও ১২শতক জমিতে গোলআলু চাষ করেছেন। প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে ১ মন মরিচ এ পর্যন্ত বিক্রয় করেছেন। আবহাওয়া ভাল থাকলে ও ক্ষেতের সব মরিচ বিক্রি করতে পারলে ৭ হাজার টাকা আয় হবে বলে তিনি জানান।
 
সাতকানিয়া কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর সবজি গোলআলুর লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১২শ' হেক্টর। উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মহিউদ্দিন ইত্তেফাককে জানান- আগাম যারা গোলআলু চাষ করেছেন তাদের বাম্পার ফলন হয়েছে। যে সমস্ত সবজি চাষি ক্ষেতের রোগ বালাই এর ব্যাপারে আমাদের নিকট আসেন তাহাদের কে সাধ্যমত পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করে থাকি।
 
ইত্তেফাক/এসএস