রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করলেন সুইস প্রেসিডেন্ট

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:০৯
সরকারি সফরে বাংলাদেশে অবস্থানরত সুইস কনফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট আঁলা বেরসে চলমান শরণার্থী সঙ্কট সম্পর্কে সম্যক ধারণা পাওয়ার জন্য মঙ্গলবার কক্সবাজার ভ্রমণ করেন। তিনি কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে মিয়ানমার থেকে বিগত কয়েক মাসে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা উদ্বাস্তুদের সঙ্গে দেখা করেন। এছাড়াও তিনি সুইস সহযোগিতা প্রাপ্ত কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।
 
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনকালে বেরসে গণমাধ্যমকে বলেন, এই ব্যাপক মাত্রার শরণার্থী সঙ্কটে ছয় লাখ পঞ্চাশ হাজারের অধিক মানুষের জন্য আশ্রয় এবং অতি জরুরি সেবা সরবরাহ করা বাংলাদেশ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য একটি বিরাট চাপ। তিনি আরো বলেন, এই সঙ্কট মোকাবেলা করার জন্য বাংলাদেশ, জাতিসংঘের সংস্থাসমূহ এবং অন্যান্য উন্নয়ন অংশীদারদের সঙ্গে সুইজারল্যান্ড ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। 
 
বেরসে মিয়ানমার থেকে আগত শরণার্থীদের স্বাগত জানানো এবং আশ্রয় দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের আপ্রাণ প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেন। স্বেচ্ছায়, নিরাপদে এবং সম্মানের সঙ্গে শরণার্থীদের তাদের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি ক্যাম্পে বসবাসরত নারী ও শিশুদের পরিস্থিতি এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তাদের বাড়তি নিরাপত্তার উপর জোর দেন। তিনি আরো বলেন, সুইজারল্যান্ড কফি আনান কমিশন রিপোর্টের পূর্ণ বাস্তবায়নের আহবান জানায়। এর আগে, সুইস প্রেসিডেন্ট কক্সবাজার সদর জেলা হাসপাতালে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিত্সা সরঞ্জামসহ সুইস অনুদান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। স্থানীয় কমিউনিটির পাশাপাশি আগত রোহিঙ্গাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করার জন্য হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মচারীরা যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তিনি সেটি তুলে ধরেন।
 
শরণার্থী সংকটের একটি স্থায়ী সমাধানের জন্য মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে চলমান অগ্রগতিকে সুইজারল্যান্ড স্বাগত জানায় এবং সেই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তন স্বেচ্ছা, নিরাপদ এবং সম্মানজনক হওয়ার আশা রাখে। আগত রোহিঙ্গাদের জরুরি মানবিক সহায়তায় সুইস মানবিক সাহায্য সংস্থা ২০১৭ সালে ৮ মিলিয়ন সুইস ফ্রাঙ্ক/ ৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সরবরাহ করেছে। ২০১৮ সালেও সুইজারল্যান্ড ১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অতিরিক্ত সহায়তা নিয়ে এই মানবিক প্রচেষ্টাতে সংযুক্ত থাকবে। উক্ত সহায়তার ফলে শরণার্থী সংকটের দ্বারা প্রভাবিত কক্সবাজার এলাকার স্থানীয় কমিউনিটিও উপকৃত হবে।
 
ইত্তেফাক/সেতু