প্রধান বিচারপতিকে তদন্তের অনুরোধ আইনমন্ত্রীর

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:৪৩
উচ্চ আদালতের দুর্নীতি ও অনিয়মের যেসব অভিযোগ অ্যাটর্নি জেনারেল কর্তৃক উত্থাপন করা হয়েছে সেগুলো তদন্তের জন্য প্রধান বিচারপতিকে অনুরোধ জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আইনমন্ত্রী এ অনুরোধ জানান। প্রধান বিচারপতিও এ বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আইনমন্ত্রীকে জানিয়েছেন বলে জানা গেছে।
 
রবিবার প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনকে সংবর্ধনা দেয় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি জয়নুল আবেদীন। সংবর্ধনা প্রদানকালে অ্যাটর্নি জেনারেল উচ্চ আদালতের  দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি কিছু কিছু বিচারকের সময়মত এজলাসে না উঠা ও বেঞ্চ অফিসারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া, বিশেষ কোর্ট বিশেষ আইনজীবীর, আদালতের কিছু অসাধু কর্মচারী মামলা নিচ থেকে কার্যতালিকার উপরে এনে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়া, রায় জালিয়াতির বিষয়টিও তুলে ধরার পাশাপাশি এসব অনিয়ম দূরীকরণে প্রধান বিচারপতিকে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান। 
 
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ২০২১ সালের শেষ দিন পর্যন্ত আপনি প্রধান বিচারপতির পদে আসীন থাকবেন। আমাদের বিচার বিভাগের বর্তমান যে অবস্থা তাতে আপনি আমূল পরিবর্তন আনতে পারেন যদি এসব বিষয়ে দৃঢ় পদক্ষেপ নেন।
 
মঙ্গলবার দুপুরে আইনমন্ত্রী প্রধান বিচারপতির খাস কামরায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেন। প্রায় এক ঘণ্টা সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, আমি আইনমন্ত্রী থাকাকালে যিনিই প্রধান বিচারপতি হয়েছেন তাদের সঙ্গে আমি দেখা করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় নবনিযুক্ত প্রধান বিচারপতিকে অভিনন্দন জানাতে এসেছিলাম। আমি আগেও যেটা বলেছি এবং এখনও সেটা বলছি যে রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়একটি সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। এবারও বলেছি সেই সেতুবন্ধন অটুট রখার জন্য এবং আমার সহযোগিতা ঘাটতি কোথাও হবে না। 
 
তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্টে দুর্নীতি-অনিয়ম নিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের বক্তব্যের বিষয়েও কথা হয়েছে। অনেক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওই বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন। আমার বিশ্বাস যে, বিচার বিভাগকে আরও পরিচ্ছন্ন করতে যেসব জায়গায় আপনার (প্রধান বিচারপতি) পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ আপনি নেবেন বলে আমরা আশা করি। কারণ এই অভিযোগগুলোর তদন্ত করার প্রয়োজন আছে। সকলে যেহেতু এক কথা বলছে সেহেতু আপনি তদন্ত করবেন বলে আমার বিশ্বাস। 
 
তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহা বিভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন এবং সেগুলো আমাকে আইনানুগভাবে হ্যান্ডেল করতে হয়েছে। আমি কখনই আমার কোন বক্তব্যে বা সরকারও কখনই বিচার বিভাগকে কোন কারণেই উপেক্ষা করেনি। তিনি বলেন, আজকেও আমি দেখা করে প্রধান বিচারপতিকে যে সহযোগিতা, আমাদের কি করণীয় সে নির্দেশনা চেয়েছি এবং সহযোগিতার কথা বলেছি। তার নির্দেশনা পেলেই যেখানে যেখানে সহযোগিতা প্রয়োজন সেখানে নিশ্চয়ই সহযোগিতা করবো। তিনি বলেন, একটু অপেক্ষা করেন শিগগিরই সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ হবে।
 
এদিকে ‘মিট দ্যা প্রেস’ অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী বলেছেন, প্রস্তাবিত ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের ৩২ ধারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাড়াবে না। সাংবাদিকদের ঘায়েল করার জন্য এই আইন করা হয়নি, কেন আপনারা এটা ঘাড়ে নিচ্ছেন? সত্য উদঘাটন করেন, তাহলে ৩২ ধারায় ফেলতে পারবে না। তবে ন্যায়সঙ্গত কারণ থাকলে এবং প্রয়োজন হলে জনস্বার্থে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সুরক্ষায় ৩২ ধারায় একটি উপধারা যোগ করা হবে। তিনি বলেন, তথ্য-প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে অপরাধগুলোকে অনেক স্পষ্ট করা হয়েছে। কম অপরাধের জন্য ছোটো সাজা আর বড় অপরাধের জন্য বড় সাজার বিধান রাখা হচ্ছে। ৩২ ধারায় যে ডিজিটাল গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধের কথা বলা হয়েছে এর সবগুলোই দন্ডবিধির আওতাভুক্ত অপরাধ। 
 
বিএনপি চেয়ারপার্সনের মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, জিয়া অরফানেজ মামলা দায়ের করা হয়েছে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। আর ওই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন ফখরুদ্দীন আহমদ। সবাই বলে এটা আধা সামরিক সরকার ছিল। তখন সেনাবাহিনীর প্রধান যিনি ছিলেন সেই মঈন ইউ আহমেদ খালেদা জিয়ার হ্যান্ড পিক ছিলেন। সেই মামলা তিনিই করে গেছেন। তারপর দুদক সেটার তদন্ত করেছে। তারাই অভিযোগ দিয়েছে। এই মামলা খারিজের জন্য তারা একাধিকবার সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছেন কিন্তু তারা হেরেছেন। তাহলে সরকার নাক গলাল কোথায় সেটা আমি বুঝতে পারছি না? ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি সাংবাদিক আশুতোষ সরকার। 
 
ইত্তেফাক/এমআই