গোপালপুরে একটি ঝুঁকিপূর্ণ জীর্ণ ভবনে এসএসসি পরীক্ষা দিতে বাধ্য হচ্ছে পরীক্ষার্থীরা। সোমবার গোপালপুর উপজেলার খন্দকার আসাদুজ্জামান একাডেমির পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে এ করুণ দৃশ্য দেখা যায়।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পৌরশহর থেকে এক কিলো দূরে অজপাড়া গার বৈরাণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভেনু হিসেবে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। শতাব্দী প্রাচীন ভবনটির ছাদে ও দেয়ালে অসংখ্য ফাটল। প্লাস্টার খসে পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ভবনটিকে সাত মাস আগে বিপজ্জনক বলে ঘোষণা করেন। ভবন ধসে পড়ার ভয়ে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীরা সারা বছর মাঠে ক্লাস করে। অথচ এমন বিপজ্জনক ভবনটিকে রাজনৈতিক তদবিরে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ঘোষণা করেন ঢাকা বোর্ড। কেন্দ্রের এ ভেন্যুতে ৮৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ দিচ্ছেন। ছেলেমেয়েদের কেন্দ্রে প্রবেশ করিয়ে দিয়ে বাইরে অভিভাবকরা উত্কণ্ঠার মধ্যে অপেক্ষা করেন। তাদের ভয়, না জানি কখন ভবন ধসে দুর্ঘটনায় তাদের সন্তান প্রাণ হারায়।
পরীক্ষার্থী মাহফুজা মীনা ও দীপ্ত দেবনাথ জানান, ভবনের দুই পাশে কোনো জানালা নেই। এ জন্য পরীক্ষা হলের কক্ষ থাকে অন্ধকারাচ্ছন্ন। বিদ্যুতেরও কোনো ব্যবস্থা নেই। কয়েকজন পরীক্ষার্থী অভিযোগ করেন, টানা তিন ঘন্টা স্বল্প আলোয় লিখতে গিয়ে চোখের উপর চাপ পড়ে, মাথা ঘুরায়। বমি করে। ভবনটির সব কয়টি কক্ষেই স্থানাভাব। গাদাগাদি করে বেঞ্চ বসিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তিনটি কক্ষের একটি হচ্ছে চিলেকোঠা। স্কুলের তিন পাশ ঘিরেই ঘেঁষা আবাসিক এলাকা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিলরুবা শারমীন জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
ইত্তেফাক/নূহু
