বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মায়ের লাশ বাড়িতে রেখে এসএসসি'র ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা দিয়েছে সোহানুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী। আজ বুধবার সকালে ধুনট এনইউ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভেন্যু কেন্দ্র ধুনট সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৩ নম্বর কক্ষে বসে পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে মারা যান সোহানুর রহমানের মা সেলিনা বেগম (৪০)। মায়ের স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতেই শোককে শক্তিতে পরিণত করে পরীক্ষা কেন্দ্রে এসেছে সে।
সোহানুর রহমান বগুড়ার শেরপুর উপজেলার চকধলী গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে। সোহানুরের মা সেলিনা বেগম কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। দীর্ঘদিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে গতকাল রাতে স্বজনদের ছেড়ে না ফেরার দেশে চলে যান সেলিনা বেগম। শিক্ষার্থীরা বাবা-মায়ের দোয়া নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে যায়। কিন্তু সেই সৌভাগ্য হয়নি সোহানুরের। মায়ের দোয়ার পরিবর্তে মায়ের লাশ বাড়িতে রেখেই কেন্দ্রে যেতে হয় তাকে। এক হাতে চোখ মুছে আর অন্য হাতে খাতায় উত্তর লিখেছে সোহানুর। সে জালশুকা মোজাহার আলী মেমোরিয়াল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে।
এদিকে সংবাদ পেয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জগৎবন্ধু মণ্ডল শোকাহত সোহানুরের খোঁজ-খবর নিতে কেন্দ্রে ছুটে আসেন। সোহানুরের পাশে দাঁড়িয়ে সান্ত্বনা দেন। এসময় সোহানুরের কান্নায় কক্ষের অনেকের চোখেই পানি চলে আসে। সোহানুরের ভালোভাবে পরীক্ষা দেয়া ও বাড়িতে পৌঁছে দেয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন ইউএনও রাজিয়া সুলতানা।
সোহানুরের মায়ের মৃত্যুতে পরীক্ষা কেন্দ্রে শোকের ছায়া নেমে আসে। সোহানুরের সহপাঠী, শিক্ষকসহ অন্যরাও তাকে সান্ত্বনা দিতে পরীক্ষা শেষে কেন্দ্রে ছুটে আসেন। পরীক্ষা শেষে মায়ের দাফন সম্পন্ন করার জন্য সোহানুর চোখ মুছতে মুছতে বাড়ির পথে রওনা হয়।
ইত্তেফাক/এসএস
