‘মানুষ-রোবটিক প্রযুক্তির সহবস্থান পোশাকশিল্পে পাথেয় হতে পারে’

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৬:৪৩
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেছেন, মানুষ এবং রোবটিক প্রযুক্তির সহযোগী অবস্থান তৈরি পোশাক খাতে প্রযুক্তিক জ্ঞানের অন্তর্ভুক্তির একটি পাথেয় হয়ে উঠতে পারে। শ্রীলংকার রাজধানী কলম্বোয় একটি হোটেলে তৈরি পোশাক খাতের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, সংহতিনাশক নতুনত্ব এবং নেতৃত্ব বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে মূল বক্তা হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। 
 
কনফারেন্সের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রীলংকায় নিযুক্ত বাংলাদেশি হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। কনফারেন্সটিতে আরো অংশগ্রহণ করেছেন প্রফেসর পেরেরা, ভাইস চ্যান্সেলর মারাটুয়া বিশ্ববিদ্যালয়, প্রফেসর ধর্মসিরি, পরিচালক পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ ম্যানেজমেন্ট (পিম) শ্রী জয় ওয়ার্দেনপুরা এবং প্রফেসর শিবলী রুবায়েত ইসলাম ডীন, বাণিজ্য অনুষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়াও বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার তৈরি পোশাক খাতের প্রতিনিধিগণ এবং সাউথ এশিয়ান শিক্ষাবিদগণ কনফারেন্সটিতে অংশগ্রহণ করেন। কনফারেন্স এ ড. আতিউর রহমান বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর প্রাক্তন গভর্নর হিসেবে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। 
 
তিনি মনে করেন রানা প্লাজার ট্রাজেডিকে যথাযথ সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে শিল্পনেতা, নীতি-নির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক গ্রাহক, ক্রেতাদের প্রতিনিধিগণ কর্তৃক অবদান রেখে চলেছেন। এখানে তিনি আরো উল্লেখ করেন, দশটি সেরা গ্রিন তৈরি পোশাক ইন্ডাস্ট্রির সাতটিই বাংলাদেশে অবস্থিত। মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে শিক্ষা, ভোকেশনাল ট্রেনিং এবং চাকরির খাতে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন, ড. আতিউর। আধুনিক প্রযুক্তিক জ্ঞানের সাথে ক্রম সংযুক্তি ব্যতীত শুধু তৈরিপোশাক খাতের পক্ষে এসব খাতের দক্ষতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা সম্ভব নয়।
 
তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ ব্যাংক পরিবেশবান্ধব ইন্ড্রাস্টি স্থাপনের লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদানের জন্য সকল আর্থিক সেক্টরকে উৎসাহ যোগাচ্ছে। জানুয়ারি ২০১৬ নাগাত, পঁয়তাল্লিশটি ব্যাংক এবং নয়টি আর্থিক সেবা প্রদানকারী ইন্সটিটিউশন গ্রিন ফাইনান্স প্রদান করে যাচ্ছে। এখানে তিনি আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তৈরি পোশাক এবং লেদার খাতের জন্য ইতোমধ্যেই দুইশ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ড বরাদ্দ করেছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তৈরি পোশাক খাতের এস.এম.ই গুলোর কমপ্লায়েন্স এর প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিশেষ সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
IMG0
ড. আতিউর রহমান এর মতে প্রযুক্তিক জ্ঞান এর অন্তর্ভুক্তি বিশাল অদক্ষ কর্মক্ষম শ্রমিককে বৈদেশিক বিনিয়োগ নির্ভর শ্রমবাজার এ যুক্ত করতে একটি অন্যতম উপায় হতে পারে। তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ বর্তমান ৫ শতাংশ তৈরিপোশাক রপ্তানি বাজার শেয়ারকে দ্বিগুণ করতে পারে যদি প্রযুক্তিক জ্ঞান এবং মানবসম্পদের সহাবস্থান ঘটানো সম্ভব হয়, বিশেষ করে মিড-লেভেল পর্যায়ে।
 
বাংলাদেশ উৎপাদন এবং সরবরাহ খাতের একটি বা দু’টি পর্যায়ে প্রযুক্তিক জ্ঞানের প্রয়োগ করতে পারে। ইতোমধ্যে কিছু দেশ মানুষ এবং রোবটের সহাবস্থানের সফল ব্যবহার শুরু করেছে।
 
সবশেষে, ড. আতিউর এই ইন্ড্রাস্ট্রির জন্য মানবসম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এছাড়া, উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এক্ষেত্রে সেতু গঠনে এগিয়ে আসতে পারে।
 
ইত্তেফাক/এমআই