পিরোজপুরের কাউখালীতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর ঘন কুয়াশায় লতা থেকে ঝরে পড়ছে পান পাতা। পান চাষে সুখ্যাতি রয়েছে পিরোজপুরের কাউখালীতে। উপজেলার প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নে পানের চাষ হয়। পান পাতা ঝরে পড়ার কারণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষীরা।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়া লাভজনক অর্থকরী ফসল পানের বড় শত্রু শীত আর কুয়াশা। এ সময় লতা থেকে পান পাতা ঝরে পড়ে। প্রতিবছর শীত মৌসুমে কাউখালীর চাষীরা কিছুটা ক্ষতির সম্মুখীন হলেও এ বছর তা মারাত্মক রুপ ধারণ করেছে।
উপজেলার পান চাষী সমিতি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ১৫০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়েছে। উপজেলার কয়েক হাজার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এই পান চাষ। গত ঘূর্ণিঝড় সিডর ও জলোচ্ছ্বাস আইলায় এবং বর্ষা মৌসুমে ভারী বর্ষণের কারণে পান চাষীদের কয়েক বছর ধরে লোকসন গুণতে হয়েছে।
প্রায় বিগত এক মাস ধরে পানের বরজের লতা থেকে ঝরে পড়ছে পান পাতা। প্রচণ্ড শীত ও কুয়াশায় পান পাতা ঝড়ে পড়াসহ পাতায় দেখা দিয়েছে বিভিন্ন ধরনের দাগ। এ ছাড়া আগা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে লতা। পান পাতা পরিপক্ক না হওয়ায় সেগুলো বিক্রি করতে পারছেন না চাষীরা। ঠাণ্ডা আর কুয়াশা থেকে পান পাতা রক্ষা করতে চাষীরা বরজের চারপাশ পলিথিন দিয়ে ঢেকে দিলেও কোন কাজ হচ্ছে না।
পিরোজপুর জেলা পান চাষী সমিতির আহ্বায়ক কমরেড নিমাই মণ্ডল জানান, বর্তমানে জেলায় কৃষকের কয়েক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ বছরে ক্ষতি পুষিয়ে ওঠার জন্য সরকার পান চাষীদের আর্থিক সহযোগিতা করলে আবার তারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবে।
ইত্তেফাক/ইউবি
