ধর্মীয় অসহিষ্ণুতাসহ বিভিন্ন কারণে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের মধ্যে অশান্তি, মারামারি আর হানাহানি শুরু হচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে মানুষ। ফলে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন হচ্ছে না।
সমাজে যে সব কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত ও অশান্তি দেখা দেয় তার মধ্যে অন্যতম হলো- অন্যের ধর্মের প্রতি অসম্মান, ধর্মের অপব্যাখ্যা, ধর্ম নিয়ে ব্যবসা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ধর্মের ব্যবহার, সম্পত্তি দখলে ধর্মের ব্যবহার ও সঠিক ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব।
দেশের উন্নয়নে বলা হয়েছে- নারীর ক্ষমতায়নের কথা। শিক্ষিত নারী সমাজ উন্নয়নের চাবিকাঠি, একজন নারীই পারেন সংসার এবং সমাজ তথা রাষ্ট্র উন্নয়নের সহায়ক হতে। নারী উন্নয়নে বাল্য বিয়ে বন্ধ করতে হবে। দেশে বাল্যবিয়ে বন্ধে আইন আছে। কিন্তু এ সব আইনকে সমাজের কিছু মানুষ উপেক্ষা করে ধর্মের অপব্যাখ্যা করছে। এমনকি বাল্য বিয়ে দিতে সমাজের কিছু নামধারী গুণিজনেরা সহায়তা করে থাকেন। তারা বলেন, কন্যা সন্তানকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অন্যের হাতে তুলে দিন। বরং ঘুনে ধরা এই সমাজের ধর্মীয় অপব্যাখ্যাকারী গুণিজন নামধারীরারা এ বাল্য বিয়েকে সমর্থন করে থাকেন। তাই ধর্মের অপব্যাখ্যায় সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়ন পিছিয়ে পড়ছে।
সমাজে এক শ্রেণির লোক ধর্মের দোহায় দিয়ে নারীদের সংসার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দুরে সরিয়ে রাখতে চাই। সে ক্ষেত্রেও তারা ধর্মের অপব্যাখ্যাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। এমনকি সমাজে যারা নেতৃত্ব দেন প্রথমে তাদের ধর্মের মিথ্যা অপব্যাখ্যা দিয়ে নিজেদের মতাদর্শি করে পরে আঘাত হানেন নারীর ক্ষমতায়নের উপর।
বলা হয়- নারীরা মাঠে কৃষি কাজ করতে পারবে না। নারীরা মাঠে কৃষি কাজ করলে ফসলে ছ্যুত লাগবে। ক্ষেতে ভাল ফসল হবে না। সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। গ্রামের মোড়ল, মাতব্বরদের সঙ্গে নিয়ে ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে মসজিদের ঈমাম মাইকে ঘোষণা দিয়ে নারীদের মাঠে কাজ করতে নিষেধ করেছেন। মসজিদের মাইকে এমন ঘোষণায় হতবাক হয়েছেন দেশের সচেতন মহল।
রাষ্ট্র যেখানে চাই নারীর ক্ষমতায়ন, পুরুষের পাশাপাশি নারীদের সমান অধিকার সেখানে কিছু ধর্মীয় অপব্যাখ্যাকারীদের এই ধরনের পদক্ষেপ বা প্রচার প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নের।
নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে জন্য সম্প্রতি যশোরের শার্শা উপজেলার বসন্তপুর গ্রামে এক শ্রেণির লোক ধর্মীয় অপব্যাখ্যা দিয়ে দাঙ্গা বাঁধিয়ে দেন। দাঙ্গা বাঁধলে অনেকে বাধ্য হয়ে জমি বিক্রি করবে। এতে কম মুল্যে জমি ক্রয় করা যাবে। আর এই সুযোগ কাজে লাগায় এক শ্রেণির লেবাসধারীরা ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে।
ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার ফলে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। মানুষ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়। মানুষ এক ঘরে হয়ে জীবন যাপন করে। তাদের মধ্যে ছিন্ন হয় সামাজিক বন্ধন, সমাজে ঘটে অহেতুক প্রাণহানী, ভিটে ছাড়া হয় অনেক পরিবার। তাই সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে সকল শ্রেণির মানুষকে হতে হবে সচেতন। যেখানে থাকবে না কোন জাতি, ধর্ম ও বর্ণ ভেদাভেদ। সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে হলে সমাজ এবং রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরকে ঢেলে সাজাতে হবে৷ শিক্ষা ব্যবস্থাকেও ঢেলে সাজাতে হবে৷ এ ছাড়া দেশের প্রতিটি মানুষকে যার যার অবস্থান থেকে একসঙ্গে কাজ করলে অসাম্প্রদায়িক কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলা সম্ভব৷
বেনাপোলের প্রবীন শিক্ষক ও সমাজ সেবক আলী হোসেন বলেন, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা একটি সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে বাঁধা সৃষ্টি করে। ধর্মের দোহায় দিয়ে যারা সমাজে অনাচার সৃষ্টি করে তাদের প্রতি কঠোর হওয়া সচেতন।
যশোরের পুলিশ সুপার আনিচুর রহমান জানান, জাতিগত দাঙ্গায় পুলিশেরর ভুমিকা থাকে কঠোর। প্রয়োজনে সংঘটিত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিম মোতায়েনসহ অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প বসানো হয়ে থাকে।
