প্রত্যাবাসনে বিলম্ব হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ০২:১৯


ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বরিস জনসন গতকাল শনিবার উখিয়ার কুতুপালংয়ে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এসময় রোহিঙ্গাদের   অমানবিক নির্যাতনের কথা শুনে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। রোহিঙ্গাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ব্রিটিশ সরকার রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে আছে। ভবিষ্যতেও রোহিঙ্গাদের যে কোনো ধরনের সমস্যা সমাধানে যুক্তরাজ্য পাশে থেকে কাজ করে যাবে। মন্ত্রী রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনের পক্ষে মতো প্রকাশ করে বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হলে পরিস্থিতি আরো জটিল হতে পারে। এছাড়া মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের উচিত জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া প্রত্যক্ষ করার সুযোগ দেওয়া।

দুপুর দেড়টার দিকে বরিস জনসন কুতুপালং টিভি রিলে কেন্দ্র এলাকায় স্থাপিত ট্রানজিট ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। এসময় নির্যাতিত রোহিঙ্গারা তাকে বলেন, তাদেরকে নাগরিক অধিকারসহ পড়ালেখা, অবাধ চলাচল, নিরাপদ বাসস্থানসহ ভোটাধিকার নিশ্চিত করে মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে হবে। তা না হলে মিয়ানমার সামরিক জান্তা যে কোনো অজুহাতে রোহিঙ্গাদের আবারো নির্যাতনের মুখে ফেলবে। এছাড়া প্রত্যাবাসনের পরপরই তাদেরকে পারিবারিক বসতভিটায় ফিরে যাওয়ার অনুমতি দিতে হবে এবং তাদের যা যা ক্ষতি হয়েছে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

জবাবে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গারা যাতে সে দেশে ফিরে গিয়ে তাদের মৌলিক অধিকার ভোগ করতে পারে সে ব্যাপারে আন্তর্জাতিক বিশ্বের পাশাপাশি ব্রিটিশ সরকার মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। যে কারণে মিয়ানমার সরকার আগের তুলনায় অনেকটা নমনীয় হয়ে এসেছে।

পরে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালুখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে সেখানে বিভিন্ন এনজিও সংস্থার সেবা কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন।

ইত্তেফাক/নূহু