শতায়ুবাসীর গ্রাম তিয়ানা

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:০৩
গ্রিসের ইকারিয়া, কোস্টারিকার নিকোইয়া, জাপানের ওকিনওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের লোমা লিন্ডার মতো ইতালির সারদিনিয়ার মানুষের গড় আয়ু একশ বছরের কাছাকাছি। শতায়ু নাগরিকের অনুপাতের হিসেবে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে সারদিনিয়া। অন্যান্য জায়গায় প্রতি চার জনে একজন শতায়ুর অধিকারী হলেও সারদিনিয়ার প্রতি দুই জনের একজন শতায়ুর অধিকারী।
 
সব থেকে মজার বিষয়, শতায়ু অর্জন করা মানুষের ক্ষেত্রে এখানে নারী-পুরুষের অনুপাত প্রায় একই রকম। তবে সারদিনিয়ার মধ্যে সবথেকে বেশি বয়স লাভ করার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে বৈশিষ্টমন্ডিত তিয়ানা গ্রামটি। এই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষের বয়সই একশ বছরের বেশি। একশ বছরের বেশিদিন বেঁচে থাকা মানুষের ক্ষেত্রে তিনগুণ রয়েছে তিয়ানা গ্রামে। এ কারণেই তিয়ানা গ্রামটি অন্য সব অঞ্চল থেকে ব্যতিক্রম।
 
এই তিয়ানার বাসিন্দা অ্যান্থেনিয়ো টডেই হচ্ছেন পৃথিবীর একমাত্র স্বীকৃত মানুষ যিনি একই সাথে তিনটি শতক বেঁচে ছিলেন। উনিশ শতকের শেষ দিকে জন্মগ্রহণ করেছিলেন অ্যান্থেনিয়ো আর বেঁচে ছিলেন একুশ শতকের শুরু পর্যন্ত। ২০০২ সালে ১১০ বছর বয়সে মারা যান অ্যান্থেনিয়ো। তার ছেলে টোনিয়োর বর্তমান বয়স ৮৪ বছর, তিনি আশা করেন একশ বছর বাঁচবেন। মূলত উন্নত জিনগত বৈশিষ্ট্য, সুষম খাবার এবং শারীরিক কসরতের কারণে এখানকার মানুষ দীর্ঘ জীবনের অধিকারী।
 
তবে নানা সময়ে ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের মানুষের বেশি গড় আয়ু নিয়ে গবেষণাকারী দলের মতে, সামাজিক মিথষ্ক্রিয়া অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করে। পরিবারের সদস্যদের সুসম্পর্ক, সেবা এবং নিজস্ব সম্প্রদায়ের লোকজনের মধ্যে পারস্পারিক কর্মকাণ্ড বেশি দিন বেঁচে থাকার শক্তি জোগায়।
 
২০০০ সালের দিকে জনতত্ত্ববিদ এবং চিকিৎসক ড. গিয়োভান্নি পেস এক গবেষণায় দেখতে পান, সারদিনিয়া অঞ্চলের বেশ কিছু গ্রামে মানুষের গড় আয়ু বেশি। এখানে মানুষের মৃত্যু হার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম। যেসব অঞ্চলে মানুষের গড় আয়ু বেশি সেসব অঞ্চলকে তিনি ‘ব্লু জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে বিশেষ এক মানচিত্র প্রস্তুত করেন।
 
এই মানচিত্রে সারদিনিয়ার পাশাপাশি গ্রিসের ইকারিয়া এবং কোস্টারিকার নিকোইয়াকে অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি। জিনগত কারণে মানুষের গড় আয়ু বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ২০ থেকে ২৫ ভাগ। কিন্তু তিয়নার বাসিন্দারা মনে করেন, বেশিদিন বাঁচার ক্ষেত্রে জিনগত বৈশিষ্ট্যের চেয়ে সামাজিক এবং মনস্তাত্ত্বিক বিষয় বেশি ভূমিকা রাখে।-সিএনএন
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ