১০ কোটি টাকার চাউল নিয়ে ব্যবসায়ী উধাও

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৪:৪২
বাকিতে কিনেছেন ২২ জন ব্যবসায়ীর চাউল। বিক্রেতারা টাকার জন্য চাপ দেওয়ায় নিরুদ্দেশ রয়েছেন ওই ব্যবসায়ী। এখন পুঁজি সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অন্য ব্যবসায়ীরা। বাধ্য হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
 
নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার চাঁচকৈড় মোকামের ভুক্তভোগী এসব ব্যবসায়ীর প্রায় ১০ কোটি ৬ লাখ টাকার চাউল নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে মো. ছাবেন শাহ (৪৫) নামে এক ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। চাঁচকৈড় বাজারে 'মেসার্স শাহ্ এগ্রোফুড' নামে তার একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
 
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষে ব্যবসায়ী মো. গোলাপ তালুকদার প্রতারণা ও টাকা আত্মসাতের ঘটনায় উধাও হওয়া ব্যবসায়ী ছাবেন শাহ’র বিরুদ্ধে গুরুদাসপুর থানায় অভিযোগটি দাখিল করেন। গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দিলীপ কুমার দাস অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
 
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পক্ষে গোলাপ তালুকদার, ইমরুল শাহ, দিলীপ কুমার ঘোষসহ কমপক্ষে ১০জন ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, ব্যবসায়ী মো. ছাবেন শাহ চাঁচকৈড় মোকামের এসব ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দীর্ঘ দিন ধরে নগদ ও বাকিতে চাউল কিনতেন। সর্বশেষ গত জানুয়ারি মাসেও প্রায় ৩০-৪০ ট্রাক চাল বাকিতে ক্রয় করেন ব্যবসায়ী ছাবেন শাহ।
 
গত ২৭  জানুয়ারি এসব ব্যবসায়ীরা তাদের পাওনা বকেয়া টাকার তাগাদা দেন। এসময় টাকা পরিশোধ না করে পাওনাদার ব্যবসায়ীদের সাথে অসদাচরণ করেন ছাবেন শাহ। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের কাছে মৌখিক অভিযোগ দেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা। এরই ফাঁকে টাকা পরিশোধ না করে উধাও হন ছাবেন শাহ।
 
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা আরো অভিযোগ করে বলেন, 'ব্যবসায়ীদের মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হওয়ার পেছনে ছাবেন শাহর ভাই মো. সেলিম শাহ, মালুশাহ ও চাচাতো ভাই মশিউর রহমানের যোগসাজশ রয়েছে। তাদের প্ররোচনায় পরিকল্পিতভাবে এসব ব্যবসায়ীদের চাল বাকিতে নিয়ে উধাও হয়েছেন তিনি।
 
উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মো. আয়নাল হক তালুকদার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের তালিকায় তিনিও রয়েছেন। পাওনা টাকা আদায়ে ছাবেন শাহ’র সাথে কয়েক দফা বৈঠকও হয়েছে। নানা অজুহাতে সময় ক্ষেপণ করে এখন নিরুদ্দেশ রয়েছেন। তার স্বজনদের বলেও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
 
এব্যাপারে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ছাবেন শাহর বক্তব্য নেওয়ার জন্য রবিবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার চাচাতো ভাই সাবেক পৌর মেয়র মশিউর রহমান দাবী করেন, গত ৬-৭ বছর ধরে পরিবারসহ তিনি ঢাকায় অবস্থান করছেন। ছাবেন শাহর সাথে তার কোন ব্যবসায়ীক সম্পর্ক নেই। যোগসাজশ থাকার প্রশ্নই ওঠে না। রাজনৈতিকভাবে হেয় করতেই অভিযোগে তাকে জড়ানো হয়েছে।
 
ছাবেন শাহর ছোট ভাই মো. সেলিম শাহ দাবী করেন, তিনি পৃথকভাবে বসবাস করেন। 'মেসার্স শাহ এন্টার প্রাইজ' নামে পৃথক রড-সিমেন্ট ব্যবসার সাথে জড়িত। ব্যাংক ঋণ এবং মহাজনের কাছে বাকিতে পণ্য নিয়ে ব্যবসা করছেন। তার ভাইয়ের ব্যবসার সাথে কোন সম্পর্ক নেই। তার পরও কতিপয় ব্যবসায়ী তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে 'ভাইয়ের কারণে' তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। তবে ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তার ভাই ছাবেন শাহ এলাকা ছেড়েছেন। কে কত টাকা পাবেন তার হিসাব ভাই ছাবেন শাহ-ই বলতে পারবেন।
 
ইত্তেফাক/এসএস