রাঙ্গামাটিতে ছাত্রলীগ নেতা সুপায়ন চাকমার উপর দুর্বৃত্তদের হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার হরতালের ডাক দেয়া হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় বনরূপায় রাঙ্গামাটি-চট্টগ্রাম সড়কের ওপর রাস্তায় ব্যারিকেট দিয়ে অবস্থান নিলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ বাঁধে। ছাত্রলীগ, যুবলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ ১৫জন আহত হয়েছেন।
উভয়ের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটনায় রাঙ্গামাটি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ভাংচুর করা হয় দুইটি গাড়ি। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকাগুলি ছুড়ে।
জানা যায়, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুপায়ন চাকমার উপর হামলার ঘটনায় পাহাড়ী ছাত্র পরিষদকে দায়ী করেছে ছাত্রলীগ। এই ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রলীগ মঙ্গলবার সকাল-সন্ধ্যা হরতালের ডাক দিয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় শহরের রাজবাড়ী এলাকায় সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুপায়ন চাকমার উপর দুর্বৃত্তরা অর্তকিতে হামলা চালিয়ে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাঙ্গামাটি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে সন্ধ্যায় বনরূপা বিএম মার্কেটের সামনে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে তারা রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে যান বাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যারিকেট তুলতে চাইলে ছাত্রলীগ যুবলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে পুলিশ লাটিচার্জ করলে উভয়ের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পুলিশ এই সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এসময় বিক্ষুব্ধরা পুলিশ সুপার ও ম্যাজিস্ট্রেটের গাড়ি ভাংচুর করে। সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়। বনরূপাসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনার এক পর্যায়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুছা মাতব্বরসহ বেশ কয়েকজন নেতা বনরূপায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। রাত পৌনে ৯টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কয়েকদফা ফাঁকা গুলি ছুড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়।
ইত্তেফাক/আরকেজি
