বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করেই নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বেই অংশ নেব। তাকে ছাড়া দেশে আর কোনো নির্বাচন হবে না, হতে দেয়া হবে না। তাকে ছাড়া আমরা কোনো নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করব না। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করে নির্দলীয় সরকার কায়েম করেই নির্বাচনে যাব। তিনি বলেন, সরকার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও খালেদা জিয়াকে নির্বাচনের বাইরে রাখার দুরভিসন্ধি থেকে সরকার তাকে কারাগারে নিয়েছে। তার বিরুদ্ধে রায় এদেশের জনগণ গ্রহণ করেনি, অনতিবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।
গতকাল খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত পূর্বঘোষিত এক ঘণ্টার মানববন্ধনে তিনি একথা বলেন। এরআগে সকাল থেকেই প্রেসক্লাবের সামনে নেতা-কর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। সুপ্রিম কোর্টের সামনের কদম ফোয়ারা থেকে নয়াপল্টন মোড় পর্যন্তসড়কে নেতা-কর্মীতে সয়লাব হয়ে যায়। মানববন্ধন হলেও মূলত তা বিশাল সমাবেশে পরিণত হয়।
মানববন্ধনে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, আবদুল আউয়াল মিন্টু, শামসুজ্জামান দুদু, ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, আবদুস সালাম, জয়নাল আবদীন ফারুক, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আবদুস সালাম আজাদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ২০-দলীয় জোটের শরিক দলের মধ্যে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, এলডিপির ডা. রেদোয়ান আহমেদ, ন্যাপ মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনপিপির মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, জাগপার আসাদুর রহমান খান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাইফুদ্দিন মনি, এনডিপির খন্দকার গোলাম মর্তুজা, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল করিম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার নামে যে মামলা হয়েছে তা মিথ্যা বানোয়াট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আমাদের একটিই দাবি, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, দিতে হবে। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে আছি। কিন্তু সরকার নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করছে। তার তীব্র নিন্দা জানাই। বেগম জিয়াকে কারাগারে রেখে আমাদের আন্দোলন দমানো যাবে না। খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বেগম জিয়াকে প্রথম দিন থেকেই ডিভিশন দেয়া উচিত ছিল। তাকে ডিভিশন না দিয়ে যে কষ্ট দেয়া হয়েছে আমরা এর বিচার চাই।
ইত্তেফাক/নূহু
