মাতামুহুরী সেতুতে চলছে বালু থেরাপি

আপডেট : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:০৬
কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী সেতুটি রক্ষায় সড়ক ও জনপদ বিভাগের বালু থেরাপি এখনো বলবত রয়েছে। তিনবছর আগে সেতুটি ধসে পড়ার উপক্রম দেখা দিলে দুর্ঘটনা এড়াতে ওইসময় তাৎক্ষণিক প্রস্তুতি হিসেবে কক্সবাজার সড়ক বিভাগ সেতুর নীচের অংশে বালির বস্তা পুঁতে রাখে।
 
অপরদিকে সেতুর মাঝখানে উপরের অংশে ফাটলের সৃষ্টি হওয়ায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সেখানে দেয়া হয় পাটাতনের প্রলেপ। ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে ইতোমধ্যে কয়েকদফা পাটাতনগুলো ভেঙে গেলে তা আবার বদল করে দেয়া হয়। বর্তমানে জোড়াতালির পাটাতনে ঝুঁকিতে রয়েছে যানবাহন চলাচল। এতে বড় ধরণের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
 
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, এভাবে কতদিন সেতুটি সচল রাখা যাবে। দিন যত গড়াচ্ছে, ততই মাতামুহুরী নদীর চিরিঙ্গা পয়েন্টের শতবছরের পুরানো সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এ অবস্থায় দুর্ঘটনা ঘটার আগে বর্তমান সেতুটির পাশে অবিলম্বে দ্বিতীয় মাতামুহুরী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন চকরিয়াবাসী। ইতোমধ্যে নতুন সেতু নির্মাণের দাবিতে চকরিয়া শহরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে টিআইবির সহযোগী সংগঠন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)। সনাকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে দাবির সাথে একাত্মা প্রকাশ করে অংশ নেন নানা শ্রেণী-পেশার মানুষ।
 
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী বলেন, 'পর্যটন খাতের ব্যবসার প্রসার ঘটাতে নির্ভরশীল এই মহাসড়ক। এই কারণে মাতামুহুরী সেতুটির অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক বেশি। সেতুটি ধসে পড়লে বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় কক্সবাজারের সাথে সারাদেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে। তাই দেশের অর্থনৈতিক চাকা গতিশীল রাখতে অবিলম্বে এখানে নতুন সেতু নির্মাণের দাবিটি এখন সময়ের।'
 
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী রানাপ্রিয় বড়ুয়া বলেন, "সেতুর বিষয় নিয়ে স্থানীয় জনগণ আমজনতা কী বলছে বা করছে সেটি নিয়ে আমারা কি করতে পারি। তবে আমরা আমাদের মতো কাজ করছি। বর্তমানে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে 'রেট্রোফিটিং' ডিজাইন অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি থেকে এই প্রকল্পের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদার মেজবাহ অ্যাসোসিয়েটস সেতুর নিচে কাজ করছে। পরবর্তী ছয় মাস অর্থাৎ আগামী জুন মাসে এই কাজ শেষ হবে।"
 
সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে বর্তমানে মহাসড়কে চার লেন বিশিষ্ট সেতুগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। সেতুগুলো হচ্ছে চকরিয়া উপজেলার মাতামুহুরী সেতু, দোহাজারী সাঙ্গু সেতু, চন্দনাইশের বরগুনি সেতু ও পটিয়ার ইন্দ্রপুল সেতু। জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর ৩০৮ কোটি টাকা ব্যয়ে সেতুগুলো নির্মাণ করবে। ক্রস বর্ডার ইমপ্রুভমেন্ট নেটওয়ার্কের আওতায় সেগুলো নির্মিত হবে।
 
সরকারের অনুমোদিত নির্মিতব্য চারটি সেতুর বিষয়ে সর্বশেষ ব্যাখ্যা করেন সেতু নির্মাণ প্রকল্পের ডিপিএম (ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার) সৈয়দা তানজিমা সুলতানা। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, 'ইতোমধ্যে সেতুগুলোর স্থান নির্বাচন, মাটি পরীক্ষা, ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থায়নও চূড়ান্ত হয়েছে। সম্প্রতি সময়ে সেতু নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। মার্চে দরপত্র খোলার পর মূল্যায়ন এবং এপ্রিল নাগাদ ঠিকাদার চূড়ান্ত হবে। এরপর নির্মাণ কাজ শুরু হবে।কাজ শেষ হতে সময় লাগবে তিন বছর।'
 
ইত্তেফাক/এসএস