প্রাভা হেলথ ও আহসানিয়া মিশন হাসপাতালের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১২:০৭
প্রাভা হেলথ ও আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হসপিটাল এর মধ্যে গত ৪ ফেব্রুয়ারি একটি সমঝোতা স্মারক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে আহসানিয়া মিশনের সকল রোগীরা অনেক সহজে এবং সুলভ মূল্যে প্রাভার ক্যান্সার ডায়াগনস্টিক সুবিধাগুলো পাবে।
 
'বাংলাদেশে মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে ক্যান্সারের অবস্থান ৬ষ্ঠ। প্রতিবছরেই আহসানিয়া মিশন শতাধিক ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের বিশ্বমানের ক্যান্সার নিরাময় সেবা দিয়ে থাকে। প্রাভা'র সাথে এই চুক্তিবদ্ধতার ফলে রোগীদের টার্গেটেড এজেন্টের ব্যবহারে বিশ্বমানের ট্রিটমেন্ট দেয়ার যে লক্ষ্য আমাদের ছিল তাও পূরণ হবে' বলে উল্লেখ করেছেন আহসানিয়া মিশনের  মেডিক্যাল সার্ভিসেস ডিরেক্টর এবং রেডিয়েশন অঙ্কলজি বিভাগের প্রধান প্রোফেসর ড. কামরুজ্জামান চৌধুরী।
 
গত বছরের অক্টোবরে প্রাভায় বাংলাদেশের সর্বপ্রথম মলিকিউলার ক্যান্সার ডায়াগনস্টিক পিসিআর টেস্ট সফলভাবে কার্যকর হয়। কোলোরেক্টাল, ব্রেস্ট, সার্ভিক্যাল, ও লাঙ্গ ক্যান্সারের প্রাথমিক স্তরের নির্ণয়ের জন্যে অঙ্কলজি মলিকিউলার ডায়াগনস্টিক বা মলিকিউলার ক্যান্সার ডায়াগনস্টিক, সবচেয়ে কার্যকরী বলে গণ্য হয়ে থাকে, যার কারণে মৃত্যুর হার কমে এবং রোগটির সাথে মানিয়ে চলা হয়ে ওঠে সহজতর। অতীতে বাংলাদেশি রোগীদের এসকল টেস্টগুলো করাতে হলে দেশে নমুনা সংগ্রহের পর তা বিদেশে পাঠাতে হতো। বাংলাদেশে এই টেস্টগুলো চালু করবার ফলে প্রাভা যে শুধুমাত্র এসব টেস্টের ফলাফলের ত্রুটিগুলো কমিয়ে আনছে তাই নয়, তারা রোগীদের জন্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণের খরচ কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি রিপোর্ট সংগ্রহের সময়ও কমিয়ে দিচ্ছে।
 
আহসানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হসপিটাল বর্তমানে ৫শ' বেড-বিশিষ্ট একটি নন-প্রফিট সেবামুখি হাসপাতাল যা ২০১৪ সালে স্থাপিত হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে শুধু ক্যান্সার হাসপাতাল হিসেবে চালু হলেও, পরে এখানে সাধারণ রোগীদের জন্যে সুযোগ-সুবিধা অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সকল প্রকার ক্যান্সার এবং অন্যান্য সাধারণ রোগীদের সেবার জন্যে এই হাসপাতালে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রেডিয়েশন অঙ্কলজি বিভাগ, মেডিক্যাল এবং সার্জিক্যাল অঙ্কলজি, গাইনি অঙ্কলজি সহ অন্যান্য আরও বিশেষত্বের এবং আধুনিক সুবিধাবিশিষ্ট ল্যাব রয়েছে।
 
প্রাভা হেলথ-এর প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী সিলভানা কিউ সিনহা বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে বাংলাদেশে কোন ক্যান্সার রেজিস্ট্রি নেই যা তৈরি করতে আমরা সহযোগী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হবার আশা রাখি। আমরা এটাও বিশ্বাস করি যে যতগুলো ক্যান্সারের ঘটনা আমরা জানতে পারি তার চেয়ে বেশি মানুষের ক্যান্সার হয় এদেশে। ক্যান্সারের প্রাথমিক স্তরের নির্ণয় অতঃপর কার্যকরী চিকিৎসার নির্দেশনা দিয়ে মৃত্যুর হার কমানোর জন্যে অঙ্কলজিতে মলিকিউলার ক্যান্সার ডায়াগনস্টিকের জুড়ি নেই। বাংলাদেশে প্রথমবারের মত স্টেট-অফ-দি-আর্ট ক্যান্সার ডায়াগনস্টিকের সেবা চালু করতে পেরে এবং আহসানিয়া মিশনের সাথে পার্টনারশিপ করতে পেরে প্রাভার সকলেই অত্যন্ত আনন্দিত।'
 
ইত্তেফাক/এসএস