খুলনায় শাহজালালের চোখ উৎপাটন মামলার তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১৮:১৫
 
খুলনায় যুবক শাহজালালের দু’চোখ উৎপাটন মামলায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি পিটিশন দাখিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার খুলনা মহানগর হাকিম আমলী আদালতে বাদীর পক্ষে এ পিটিশন দাখিল করা হয়।
 
নারাজি পিটিশনে পিবিআই এর তদন্ত প্রতিবেদন, মনগড়া, পক্ষপাতমূলক, কথিত এবং সর্বোপরি ঘটনাকে আড়াল করে আসামি পুলিশ কর্মকর্তাদের রক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে। পক্ষপাতিতমূলক প্রতিবেদন বর্জন করে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আদেশ চাওয়া হয়েছে। আদালতের বিচারক মো. শাহীদুল ইসলাম শুনানি শেষে আগামী ২৫ ফেব্রুয়ারি আদেশের দিন ধার্য করেছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
 
এর আগে আদালতে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনে পিবিআই পরিদর্শক মো. বাবলুর রহমান খান উল্লেখ করেন, মামলার প্রধান আসামি খালিশপুর থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিম খানের বিরুদ্ধে অভিযোগের স্বপক্ষে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। একইভাবে আসামি এএসআই রাসেল, এসআই তাপস কুমার পাল, এসআই মো. মোরসেলিম মোল্লা, এসআই মো. মিজানুর রহমান, কনস্টেবল আল মামুন, আনসার সিপাহী মো. আফসার আলী, ল্যান্স নায়েক আবুল হাসেম, আনসার নায়েক রেজাউল হক, এসআই মো. নূর ইসলাম এসআই সৈয়দ সাহেব আলী, সুমা আক্তার এবং মো. রাসেলের বিরুদ্ধেও অভিযোগের স্বপক্ষে কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।
 
উল্লেখ্য আদালতে দাখিলকৃত শাহজালালের মায়ের এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত বছরের ১৮ জুলাই শাহজালাল নগরীর নয়াবাটি রেললাইন বস্তি কলোনির শ্বশুর বাড়ি থেকে রাত ৮টায় শিশু কন্যার দুধ কেনার জন্য বাসার পার্শ্ববর্তী দোকানে যান। এ সময় খালিশপুর থানার ওসি নাসিম খানের নির্দেশে তাকে থানায় ডেকে নেয়া হয়। তাকে ছাড়ানোর জন্য পরিবারের সদস্যরা থানায় গেলে ওসি দেড় লাখ টাকা দাবি করেন। দাবিকৃত টাকা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ কর্মকর্তারা শাহজালালকে পুলিশের গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যায়। পরদিন ১৯ জুলাই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে তাকে দু’টি চোখ উপড়ানো অবস্থায় দেখতে পান। 
 
ইত্তেফাক/আরকেজি