মুরাদনগরে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ২ শিক্ষকের কারাদণ্ড

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১১:৩৪
কুমিল্লায় পরীক্ষায় নকল করার দায়ে দুই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার এবং অবৈধভাবে কেন্দ্রে প্রবেশ করে নকলে সহযোগিতা করার অভিযোগে দুই শিক্ষককে দুই বছরের কারাদণ্ড ও এক অভিভাবককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মুরাদনগর উপজেলার সোনাকান্দা দারুল হুদা কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিল ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষায় এ ঘটনা ঘটে।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রথম শ্রেণির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিতু মরিয়মের ভ্রমমাণ আদালতের মাধ্যমে এই কারাদণ্ড প্রদান করেন। কারাদণ্ড প্রাপ্ত শিক্ষকরা হলেন, হায়দ্রাবাদ মাসুম বিল্লাল মেমোরিয়াল দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক মনিরুল ইসলাম ও পীরকাশিমপুর দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক আবুল হোসেন। জরিমানাকৃত অভিভাবক হলো, উপজেলার জাড্ডা গ্রামের মৃত আওয়াল হকের স্ত্রী সুরাইয়া আক্তার। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলো, নোয়াপুস্করিনী কেরামতিয়া দাখিল মাদ্রাসার ছাত্র আব্দুল কাদের ও ধামঘর শাহ কাজেম সিনিয়র মাদ্রাসার ছাত্র এক ছাত্র।
 
জানা যায়, উপজেলার সোনাকান্দা দারুল হুদা কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দাখিলের ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষায় কোন প্রকার দায়িত্ব না থাকা সত্ত্বেও অবৈধভাবে কেন্দ্রে নকল নিয়ে প্রবেশ করে নকলে সহযোগিতার অভিযোগে বৃহস্পতিবার বিকেলে দুই শিক্ষককে দুই বছর করে কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ইতিপূর্বে সাজাপ্রাপ্ত আবুল হোসেনকে আব্দুল ওয়াদুদ সরকার ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনের অনিয়মে দায়ে পরীক্ষার সকল ধরনের ধায়িত্ব পাল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। একই সয় ভ্রাম্যমাণ আদালত পীরকাশিমপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে এসএসসির রসায়ন পরীক্ষা চলাকালে পরীক্ষা কেন্দ্রে নকলসহ প্রবেশ করে সুরাইয়া আক্তার নাকে এক অভিভাবক তার সন্তানকে নকল সরবরাহ করার অভিযোগে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এ দিকে শুশুণ্ডা ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসার কেন্দ্রে নকল করার দায়ে দুই পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করেছে।
 
ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিতু মরিয়ম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পাবলিক পরীক্ষা সমূহ (অপরাধ) আইন ১৯৮০ এর ৯(খ) ধারা মোতাবেক দুই শিক্ষককে ২ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নকলের প্রবণতা থেকে ফেরে আসার জন্যই তাদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
 
ইত্তেফাক/এসএস