শিশু আদালতের পরিবেশ শিশুবান্ধবের চেষ্টা হচ্ছে: বিচারপতি ইমান আলী

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২১:১৬
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারক বিচারপতি মো. ইমান আলী বলেছেন, শিশু আইন অনুযায়ী শিশু আদালতের পরিবেশ শিশুবান্ধব করার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এখনই সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি যাতে শিশু আদালতের পরিবেশটা শিশুবান্ধব করা যায়। 
 
শনিবার শিশু আইনের বিষয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় সুপ্রিম কোর্টের ‘স্পেশাল কমিটি অন চাইল্ড রাইটস’ এর চেয়ারপার্সন বিচারপতি ইমান আলী এসব কথা বলেন। কর্মশালায় সুপ্রিম কোর্ট লিগ্যাল এইড কমিটির চেয়ারম্যান ও হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম বলেন, শিশু আইনে বলা রয়েছে প্রতিটি থানায় একটি শিশু বিষয়ক ডেস্ক গঠন করতে হবে। আর এই হেল্প ডেস্ক এর অর্থ এই নয় যে শুধু কয়েকটা টেবিল আর চেয়ার রেখে দিলেই হয়ে গেলো। এখানে একজন সাব-ইন্সপেক্টর এর নিম্নে নয় এমন একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিতে হবে। আর যিনি এই ডেস্কে কাজ করবেন তার মোটিভেশন এর প্রয়োজন রয়েছে। ‘সুপ্রিম কোর্ট স্পেশাল কমিটি অন চিলড্রেন রাইটস’ আয়োজিত কর্মশালায় বিচারক ও পুলিশ কর্মকর্তারা অংশ নেন। 
 
বিচারপতি ইমান আলী বলেন, আইনে যা আছে তা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত সেভাবেই আইনের প্রয়োগ করতে হবে। নানাবিধ সমস্যার কারণে শিশু আইনের সঠিক প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, শিশুদের বিচারের জন্য পৃথক শিশু আদালতের প্রয়োজন। আইন অনুযায়ী আদালতের পরিবেশ শিশুবান্ধব নিশ্চিত করা না গেলে বিচারের সময় তা শিশুর ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। 
 
বিচারপতি ইনায়েতুর রহিম বলেন, শিশুদের প্রতি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সহানুভুতিশীল হতে হবে। শিশুদের জবানবিন্দ রেকর্ড করার সময় দেখতে হবে তা আইন অনুযায়ী হচ্ছে কিনা? এছাড়া শিশু আদালতের পরিবেশ শিশুদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
 
পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ বলেন, যখনই কোন শিশুকে আটক করা হয় তখনই অন্য দশজন অপরাধীর সঙ্গে যেরকম ব্যবহার করা হয় শিশুর সঙ্গেও সেরকম ব্যবহার করা হয়ে থাকে। আর সেখানেই আমরা ভুলটা করি। এজন্য আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। 
 
ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার এম বজলুল করিম চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন বিচারপতি নজরুল ইসলাম তালুকদার, বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী, ইউনিসেফ বাংলাদেশের উপপ্রতিনিধি সীমা সেনগুপ্ত প্রমুখ। 
 
ইত্তেফাক/এমআই