প্রশ্ন তালাবদ্ধ, সোয়া এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

আপডেট : ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২২:৫১
বানারীপাড়ায় মডেল ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন (পাইলট) স্কুলে প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব কৃষ্ণ কান্ত হাওলাদারের  কান্ডজ্ঞানহীন দায়িত্বহীনতার কারণে উন্মূক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা সোয়া এক ঘণ্টা পরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
 
পরীক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন শুক্রবার দুপুর ২টায় শারিরীক শিক্ষা, স্বাস্থ্য বিজ্ঞান ও খেলাধুলা বিষয়ের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব কৃষ্ণকান্ত হাওলাদার পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলায় আওয়ামী লীগ নেতা হিমাংশুর পিতার শ্রাদ্ধানুষ্ঠানে ভোজে ব্যস্ত থাকায় তিনি বেমালুম ভুলে যান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিদ্যালয়ে তার কক্ষে স্টিলের আলমারিতে তিনি তালাবদ্ধ করে রেখে গেছেন।
 
৪৮জন পরীক্ষার্থী প্রশ্নের জন্য চাতক পাখির মতো অপেক্ষা করতে থাকেন। বিষয়টি জেনে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষকরা বার বার তাকে মুঠোফোনে কল করলেও তিনি ভোজে ব্যস্ত থাকায় রিসিভ করেননি। প্রায় সোয়া এক ঘণ্টা পরে বিকাল সোয়া তিনটায় তিনি এসে আলমারি থেকে প্রশ্ন বের করে দেয়ার পরে পরীক্ষা শুরু করা হয়। পার্শ্ববর্তী উপজেলার কেন্দ্রগুলোতে দুপুর ২টায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ায় বহু নির্বাচনী ও সৃজনশীল প্রশ্ন মুঠোফোনের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 
উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের বরিশালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. শামিম জানান, বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তপক্ষকে জানানো হবে।
 
এ ব্যপারে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. আসাদুজ্জাম উকিল জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ প্রসঙ্গে বানারীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শরিফুল ইসলাম জানান, তদন্তপূর্বক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
 
এদিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব কৃষ্ণকান্ত হাওলাদার জানান, তিনি মুঠোফোনের মাধ্যমে সহকারী প্রধানশিক্ষক আ. রহমানকে প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রধান শিক্ষকের কক্ষে স্টিলের আলমারি তালাবদ্ধ থাকা প্রশ্ন কিভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষক বের করে পরীক্ষা নিবেন এ প্রশ্নের সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। 
 
ইত্তেফাক/আরকেজি