নানা আয়োজনে ভাষা শহীদদের স্মরণ করল ‘লার্ন বাংলা’

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ২৩:৫৫

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে গত শুক্রবার 'লার্ন বাংলা' স্মরণ করল ভাষা শহীদদের। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বনানীর নিজস্ব অফিসে এ আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।

অনুষ্ঠানে সাংস্কৃতিক আয়োজনে অংশগ্রহণ করেছেন ভিনদেশি নাগরিকরা। লরা লাঙ্গলির কবিতা সবাইকে মুগ্ধ করেছে। তিনি আবৃত্তি করেছেন কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর ‘মাগো, ওরা বলে’। নিচলে ওয়ালটার একুশের গান ‘রক্তে আমার আবার প্রলয় দোলা’র সঙ্গে নৃত্য করেছেন। জোনাথান লাঙ্গলি ধনে ধান্যে পুষ্পে ভরা গান করেছেন। নিচলে ওয়ালটার এবং তার কন্যা নাদিয়া বসন্তের গানের সঙ্গে পরিবেশন করেন অসাধারণ নৃত্য। ফাদার জর্জ, ফাদার ফ্রান্সসিসকো ও ফাদার আলেকজেন্ডার ‘ভাষার জন্য যারা দিয়ে গেল প্রাণ’ গানটি সমন্বিতভাবে করেছেন।
IMG0
অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউটের সহকারী প্রশিক্ষক নাসিমূল আহসান ও যমুনা টিভির সংবাদ উপস্থাপক আহমেদ রেজা। উপস্থাপনা করেছেন সোহেলী নূরানী ও রোমানিয়ান ছাত্রী টি টারটুরিয়ান।

লার্ন বাংলার চেয়ারম্যান লেনিন পিনারু বলেন, অনেক ত্যাগ আর আত্মদানের মধ্য দিয়ে যে ভাষা অর্জন, অনাদর অবহেলায় সে ভাষা আজ অনেকটাই মর্যাদা হারাতে চলেছে। আর ঠিক একই সময়ে লার্ন বাংলা গত আট বছর ধরে আমাদের এই মাতৃভাষা বাংলাকে সারা পৃথিবীর মানুষের কন্ঠে তুলে ধরতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। আর বিদেশিদের এই ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহ এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে ত্বরান্বিত করছে।

লার্ন বাংলার প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মেরি জুলিয়েট পিনারু বলেন, নানারকম প্রতিবন্ধকতা থাকলেও অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে বিশ্বের প্রায় পঞ্চাশটিরও বেশি দেশের নাগরিকদের মুখে এ ভাষার ফুল ফোটাতে সক্ষম হয়েছে লার্ন বাংলা। সারা পৃথিবীতে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে প্রতি বছরই আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি নতুন ও সময়োপযোগী কার্যক্রম গ্রহণ করতে। আমাদের এই উদ্যোগকে সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়ন করতে হলে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা।

তিনি বলেন, দেশের আকৃতিগত দিক থেকে আমরা যতই ছোট হই না কেন, ভাষার ইতিহাস আর ঐতিহ্যের দিক থেকে আমরা অনেক বড়। আর এই ভাষাকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করানোর গুরুদায়িত্বটিও তাই আমাদের সবার।

রাজধানীর বনানীতে ২০১০ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলাদেশে কর্মরত একজন আমেরিকান শিক্ষার্থীকে নিয়ে লার্ন বাংলার যাত্রা শুরু হয়। গত আট বছরে ‘লার্ন বাংলা’ থেকে বাংলা শিখেছে প্রায় পাঁচ শতাধিক বিদেশি নাগরিক।

প্রতিষ্ঠানের পরিচালক দিল আরা লিনা জানান, লার্ন বাংলা শুধুমাত্র বাংলা শেখায় তাই নয়, এখানকার শিক্ষার্থীদের বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সাহিত্যের সঙ্গেও পরিচয় করানো হয়।

ইত্তেফাক/নূহু