ঢাকা-৮ আসনে দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের কোনো সংসদ সদস্য নেই। বিএনপি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলে আবারো ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন মহাজোটের প্রার্থী হতে পারেন। তবে আওয়ামী লীগের অনেক তরুণ নেতাও এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী। অন্যদিকে, টানা দুই মেয়াদে ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি এ গুরুত্বপূর্ণ আসনে শক্তিশালী প্রার্থী দিয়ে সেটি পুনরুদ্ধার করতে চায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, সচিবালয় ও দেশের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা মতিঝিল ঢাকা-৮ আসনের অন্তর্ভুক্ত। সব দলের কাছেই তাই আসনটি অতি গুরুত্বপূর্ণ।
আওয়ামী লীগ দলীয় সম্ভাব্য প্রার্থীরা হলেন : দলের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট। এ ছাড়া সাবেক ছাত্রলীগ নেতা বাহালুল মজনুন চুন্নু, বাহাদুর বেপারি, সাবেক কমিশনার কামাল চৌধুরী, গোলাম আশরাফ তালুকদারও এ আসনে মনোনয়ন চান বলে জানা গেছে।
বিএনপির প্রার্থী হতে পারেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।
২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে রাজধানীর মতিঝিল-রমনা-পল্টন থানা নিয়ে গঠন করা হয় ঢাকা-৮ সংসদীয় আসন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৮, ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ড এ আসনের আওতাভুক্ত। এর আগে এ আসনের মতিঝিল ও পল্টন থানার আওতাভুক্ত এলাকা ঢাকা-৬ ও রমনা থানার আওতাভুক্ত এলাকা ঢাকা-১০ আসনের অধীনে ছিল।
২০০৮ সালের নির্বাচনে মহাজোটের ব্যানারে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি বিএনপি প্রার্থী হাবিব উন নবী খান সোহেলকে পরাজিত করেন। গত নির্বাচনে রাশেদ খান মেনন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। জোটগতভাবে নির্বাচন হলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ক্ষমতাসীন জোটের প্রার্থী হবেন রাশেদ খান মেনন। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে রাশেদ খান মেনন বলেন, তিনি ঢাকা-৮ আসন থেকে জোটগতভাবে নির্বাচন করার সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন।
তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দাবি, এ আসনে দলের কাউকে প্রার্থী করার। এ দাবির যুক্তি তুলে ধরে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, দলকে শক্তিশালী করার স্বার্থে এবার এ আসনে আওয়ামী লীগের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত। তবে দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্তের বাইরে যাবেন না কেউ।
স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওসার বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করেছি অনেক দিন। সেখানে হল শাখাসহ ডাকসুর সমাজকল্যাণ সম্পাদকও ছিলাম। আমি এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই আছি। আর দলের মনোনয়ন কে কোথায় পাবেন, সেটা দলীয় হাইকমান্ড নির্ধারণ করবেন।
আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। এখন দলের একটি সম্পাদকীয় পদে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। দলীয় সভাপতি আমাকে যেই দায়িত্ব দেন আমি সেই অনুসারে আগামীতেও কাজ করব।
শাহে আলম মুরাদ বলেন, নির্বাচন নিয়ে আমার কোনো ইচ্ছা নেই। নেত্রী ও দল যদি মনে করে আগামী নির্বাচনে আমি কোনো আসন থেকে নির্বাচন করি, আসনও দল ঠিক করবে। জানা গেছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে শাহে আলম মুরাদ কাজ করে যাচ্ছেন।
এদিকে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল। রংপুরে জন্ম হলেও এখন ঢাকার বাসিন্দা সোহেল। ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কমিটিতে তাকে সভাপতি করায় নেতাকর্মীদের মনে অনেকটা ধারণা জন্মেছে তিনি ঢাকা থেকে নির্বাচন করবেন। আর যেহেতু নবম সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে নির্বাচন করেছিলেন সে কারণে আগামীতেও এখান থেকেই লড়বেন।
শাহবাগ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মাসুদ বলেন, ঢাকা-৮ নির্বাচনী এলাকায় সোহেল ভাইয়ের নির্বাচনের পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। ঢাকা থেকে নির্বাচন করবেন- এমন ইঙ্গিত হাবিব উন নবী খান সোহেল নিজেও দিয়েছেন। যদিও এখনই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে সরাসরি কথা বলতে রাজি নন তিনি। ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে হাবিব উন নবী খান সোহেল বলেন, ঢাকা থেকে নির্বাচন করব এটা ঠিক। কিন্তু কোথায় করব সেটা দল সিদ্ধান্ত নেবে।
এ আসনে প্রার্থিতার ব্যাপারে আলোচনায় রয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী মির্জা আব্বাস। বিএনপির এ শীর্ষ নেতা নির্বাচনী এলাকার সীমানা পুনর্বিন্যাসের আগে মতিঝিল, শাহজাহানপুর, সবুজবাগ, মুগদা, খিলগাঁও নিয়ে ঢাকা-৬ আসনের এমপি ছিলেন। এ এলাকায় তার নিজস্ব ভোট রয়েছে। তবে মামলাসংক্রান্ত কারণে মির্জা আব্বাস ও সোহেল নির্বাচন করতে না পারলে দলের ভাইস চেয়ারম্যান (পদত্যাগী) মোসাদ্দেক আলী ফালুকে এ আসনে প্রার্থী করা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। যদিও মোসাদ্দেক আলী ফালুর ঘনিষ্ঠজনের সূত্রে জানা গেছে, অনেক দিন ধরে রাজনীতির বাইরে থাকা ফালু আগামী দিনে কোনো নির্বাচন করতে আগ্রহী নন।
বিএনপির একজন কেন্দ্রীয় নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঢাকা-৮ আসন মির্জা আব্বাসের আসন হিসেবেই পরিচিত। ২০০১ সালে তিনি এ আসনে নির্বাচন করলেও আইনি জটিলতার কারণে ২০০৮ সালে নির্বাচন করতে পারেননি। তখন নির্বাচন করেছিলেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। আগামী নির্বাচনে এ আসনে দলের প্রথম পছন্দের ব্যক্তি মির্জা আব্বাসই।
[আগামীকাল পড়ুন সংসদীয় আসন ঢাকা-১১ এর খবর]
ইত্তেফাক/নূহু
