দিনে দিনে বইমেলার পরিসর বাড়ছে। প্রকাশক-সংখ্যা বাড়ছে, পাঠক-সংখ্যা বাড়ছে, লেখক-সংখ্যাও । বিক্রিও বাড়ছে। সব প্রকাশনীর হিসাব ঠিকমত পাওয়া না গেলেও বাংলা একাডেমির হিসাব অনুযায়ী প্রতি বছর বিক্রির হার রের্কড অতিক্রম করছে।
এবারের মেলার নান্দনিক দিক হচ্ছে ‘প্যাভিলিয়ান জোন’। লেখককুঞ্জ নির্মাণে শিল্পের যে-আঁচড় আমরা দেখতে পেয়েছি তা আমাকে মুগ্ধ করেছে। আরো বেশি মুগ্ধ করেছে তরুণদের উত্সাহ, আগ্রহ এবং বইমেলামুখী তাদের ঢল। তারা কেবল ফেসবুক কিংবা নেটে বসে থাকে না। তারা কেবল মাদক গ্রহণ করে না। কলম দিয়ে শব্দের পর শব্দ চাষ করে লিখে চলেছে অসাধারণ সব গল্প, উপন্যাস। সবাই খুব ভাল লিখছে সে-কথা বলব না, বলতে পারি না। কারণ সব বই পড়া নেই। নজরেও আসেনি। তবুও বলব এর মধ্যে অনেক তরুণ ইতিমধ্যে তাদের মেধার স্বাক্ষর রেখেছে, সাহিত্যের প্রতি তাদের ভালোবাসার পতাকা উড্ডীন করেছে। তাদের অনেকের উজ্জল উপস্থিতি আমরা দেখতে পাচ্ছি এবারের বইমেলায়। বিষয়টি কথাসাহিত্যের অগ্রযাত্রার ব্যাপারে আমাকে আশান্বিত করে।
আমি চাই, চেয়ে আসছি গত প্রায় এক যুগ ধরে— প্রতিদিন বইমেলা শুরু হোক বেলা ১১ টায়। এই চাওয়ার পেছনে যুক্তি কী? আশেপাশের উপজেলা-জেলা থেকে বইপ্রেমীরা মেলায় আসার সুযোগ পাবেন দিনের বেলায়। বই কিনে বিকেলের মধ্যেই তারা ঘরে ফিরতে পারবেন। শিশু, বয়ঃজ্যেষ্ঠ এবং নারীরা সকাল-দুপুরে নির্বিঘ্নে মেলায় হাঁটাচলা করতে পারবেন, স্বস্তিতে বই বাঁছাই করতে পারবেন। বিষয়টি আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়।
ইত্তেফাক/নূহু
