চোরকে গণপিটুনি দিয়ে বিপাকে গ্রামবাসী

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, ১০:১৫
গোপালগঞ্জে আবু বক্কর শেখ (৪০) নামে এক চোরকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ না করে বিপাকে পড়েছেন গ্রামবাসী। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আবু বক্কর অভিযোগ করেছেন, বাড়ি থেকে ধরে এনে চোর অপবাদ দিয়ে গ্রামবাসী তার ওপর নির্যাতন করেছে। এতে তার দুটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। এখন সে চোখে কিছুই দেখতে পারছে না। কাশিয়ানী উপজেলার সাজাইল ইউনিয়নের ছোট খায়েরকান্দি গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।
 
ছোট খায়েরকান্দি গ্রামের নূর মিয়ার স্ত্রী নাজনীন বেগম বলেন, 'গত বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে চুরির করার উদ্দেশ্যে আবুবক্কর শেখ ধারালো অস্ত্র নিয়ে আমার ঘরে ঢুকে আমার চোখে টর্চের আলো মারে। এতে আমার ঘুম ভেঙে যায়। আমি চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করলে আবুবক্কর আমাকে ওই অস্ত্র দিয়ে কোপাতে আসে। পরে আমাকে কিলঘুষি মেরে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। আমার চিৎকার শুনে প্রতিবেশী ও গ্রামের লোকজন এগিয়ে এসে পিছু ধাওয়া করে আবুবক্করকে ধরে মারপিট করে। পরের দিন সকালে পরিবারের লোকজনের কাছে আবু বক্কারকে হস্তান্তর করা হয়। এখন আবুবক্কার উল্টো গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে বাঁচার চেষ্টা করছে।
 
আহত আবু বক্কর শেখ জানিয়েছেন, ওই রাতে প্রতিপক্ষ নয়ন শেখ পাশের ফজর আলী শেখের বাড়িতে চোর এসেছে বলে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। তারপর সাজাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল ইসলাম জুলুর উপস্থিতিতে নয়ন শেখ, তারা মিয়া, আলম মিয়া, ফজর আলীসহ বেশ কয়েকজন তাকে চোর বলে হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর মারধর করে ফজর আলীর বাড়িতে সারারাত আটকে রাখে। মারপিটে তার দুটি চোখ নষ্ট হয়ে গেছে বলে সে অভিযোগ করে।
 
ছোট খায়েরকান্দি গ্রামের নৌবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম, মসজিদের ইমাম মো. আবুল কাশেম শেখ, কলেজ ছাত্র সামসুল হক বলেন, 'আবুবক্কর এলাকার একজন পেশাদার চোর। তার বিরুদ্ধে কাশিয়ানী ও খুলনার রূপসা থানায় চুরি মামলা রয়েছে। ছোট খায়েরকান্দি গ্রাম সহ আশপাশের গ্রামে সে অনেকবার চুরি করে ধরা পড়েছে। সম্প্রতি সে গ্রামের ১০ বাড়িতে চুরি করেছে। এতে গ্রামবাসী তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। গত বৃহস্পতিবার রাতে নূর মিয়ার বাড়িতে চুরি করতে গেলে স্থানীয়রা হাতে-নাতে আটক করে বেদম মারপিট করে। তাকে পুলিশে সোপর্দ না করায় এখন সে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ করছে।'
 
সাজাইল ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য নজরুল ইসলাম জুলু বলেন, 'আবু বক্করের অভিযোগ সত্য নয়। চুরি করতে এসেই সে গ্রামবাসীর গণপিটুনির শিকার হয়েছে। এছাড়া গ্রামে একের পর এক চুরি ঘটনা ঘটছিলো। এতে সন্দেহের তীর আবু বক্করের দিকেই ছিলো।  গ্রামবাসী তাকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা করছিলো। গত বৃহস্পতিবার রাতে নূর মিয়ার ঘরে চুরি করতে গেলে তাকে গ্রামবাসী ধরে গণপিটুনি দেয়। গ্রামবাসীর কাছে মাফ চেয়ে ছাড়া পেয়ে এখন আমাদের বিরুদ্ধে উল্টো মিথ্যা অভিযোগ করছে।'
 
গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ফারুক আহম্মেদ বলেন, 'মারপিটে আবু বক্করের দুটি চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে পরীক্ষা করার পর চোখের ক্ষতির বিষয়টি জানা যাবে।'
 
কাশিয়ানী থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, 'আবু বক্করের বিরুদ্ধে কাশিয়ানী ও খুলনার রূপসা থানায় দুটি চুরি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি আছে। সে এলাকার চিহ্নিত চোর। খারাপ প্রকৃতির মানুষ। গত বৃহস্পতিবার রাতে চুরি করার সময় স্থানীয়রা তাকে হাতে-নাতে ধরে গণপিটুনি দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে। পুলিশে সোপর্দ না করে গ্রামবাসী ভুল করেছে। গ্রামবাসী থানায় অভিযোগ করলে আমরা আবু বক্করের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আবু বক্করের ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্রটি ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
 
ইত্তেফাক/এসএস